Thursday , October 18 2018
Home / জাতীয় / অনাকাঙ্কিত মৃত্যু চিকিৎসায় ভোগান্তি ও অনিয়মের আখড়ায় আসক্ত মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অনাকাঙ্কিত মৃত্যু চিকিৎসায় ভোগান্তি ও অনিয়মের আখড়ায় আসক্ত মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রুবেল ইসলাম,রংপুর
চিকিৎসকের অবহেলায় ভোগান্তীর যেন শেষ নেই! একটু উদাসীনতায় ও অদক্ষায় অপচয় হচ্ছে প্রচুর অর্থ।অহরহ প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ঔষধ সংকট তো রয়েছে ফলে কাঙ্কিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে-রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষগুলো।তবে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অনাকাঙ্কিত মৃত্যু ও রোগীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সেবার ওপর জবাবদিহিতা আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশিষ্টরা।
রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ৮ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা স্থল মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।১৯৯৯ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলে ও ১৯ বছরেও চিকিৎসা সেবার তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি,বাড়েনি লোকবল,বেড়েছে চিকিৎসা সেবায় দূর্ভোগ। ৩ জন চিকিৎসক,৮ জন চিকিৎসক সহকারী ও ১৩ জন সেবিকা নিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি,ঔষধ ,অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকলেও রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।এছাড়াও প্রতিদিন ২ জন চিকিৎসকের দায়িত্ব থাকলেও দুপুড় ১২টার পর কেউ থাকেন না।রাতে কোন চিকিৎসক তো থাকেনই না বরং সেবিকা,আয়া ও স্টোরকিপার দ্বারা চলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।ফলে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ছেড়ে ফার্মেসী ও ক্লিনিকে কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন।সরকারী দায়িত্বকে এড়িয়ে সকলে রোগী দেখেন হাসপাতালের বাইরে।ফলে ভোগান্তীর স্বীকার হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ আসা দরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো।
চিকিৎসকের চিকিৎসার অবহেলায় রোগী ভোগান্তি ও দূঘটনায় অনাকাঙ্কিত মৃত্যুসহ দূরবস্থা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে । সচরাচর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট ক্লিনিকে এমনটাই অভিযোগ রোগী ও এলাকাবাসীর ।সরেজমিনে জানা যায়-পায়ের আঙ্গুল ফেঁটে যাওয়ায় জরুরী চিকিৎসার জন্য আসেন এক শিক্ষার্থী ,তাকে কোন প্রকার চিকিৎসা প্রদান না করে বরং তারা জরুরী বিভাগের পিছনের ঘরে দরজা বন্ধ করে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষার্থী।আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন-আমার হাতের সমস্যা নিয়ে এসেছি কিন্তু কোন প্রকার ঔষধ নেই বলে জানায় হাসাপাতালে কর্তব্যরতরা,চিকিৎসা প্রদান না করায় বাসায় গিয়ে নিজের শরীরের ব্যান্ডেজ নিজে করেছেন বলে জানায় ঐ শিক্ষার্থী। গত ৫ আগস্ট অবহেলার কারণে মারা যায় দেড় বছরের শিশু।উপজেলা স্বা¯থ্য কমপ্লেক্স-এ প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাঁঠালী গ্রামের কৃষক সাজেদুল ইসলামের দেড় বছর বয়সী শিশুপুত্র রাহুল বায়েজিত শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। রবিবার দুপুরে শিশুটিকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসক শিশুটির কোনো চিকিৎসা সেবা দেননি বরং হাসপাতালে থাকা ওয়ার্ড বয় শিশুটিকে অক্সিজেন দিতে বলেন। কিন্তু স্বজনেরা অক্সিজেন কোথায় গিয়ে দেবেন, তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না! জরুরী বিভাগ থেকে ও দ্বিতীয় তলায় ওঠা-নামা করতে করতে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এভাবে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বিকেলে শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।এভাবে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষগুলো।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এখন পযর্ন্ত বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার ,সিজার ইন সেকশন বিভাগ ও সার্জারী বিভাগ ও গত ৫ বছর যাবৎ বিকল হয়ে কক্ষে পরে রয়েছে এক্স-রে মেশিন সহ নানান যন্ত্রপাতি ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসাসেবা ।
তবে সেবা বঞ্চিত রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে সীমিত জনবল দিয়ে রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়াসহ অদূর ভবিষ্যৎতে এই সমস্যা থাকবে না, বলে জানালেন সিভিল সার্জন,রংপুর এর ডাঃ আবু মোঃ জাকিরুল ইসলাম।আর কিছুদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্য সেবার সব সমস্যা সমাধানের আশ^াস দেন তিনি।
জনবহুল মিঠাপুকুর উপজেলা মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা স্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সব সমস্যা দূর করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হবে। এমনটাই প্রত্যাশা চিকিৎসারত রোগী ও ভুক্তভোগীদেও পাশাপাশি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবী তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*