Saturday , June 23 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / আইনজীবী বাবু সোনা হত্যা নিয়ে ফেসবুক পোস্টে যা জানালেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার ফারুক

আইনজীবী বাবু সোনা হত্যা নিয়ে ফেসবুক পোস্টে যা জানালেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার ফারুক

শাহরিয়ার মিম(ঢাকা থেকে):
গেল মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে রংপুর নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়ার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রংপুরে গেল ৫দিন ধড়ে নিখোঁজ বিশেষ পিপি রথিশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনার লাশটি উদ্ধার করে র্যাব।

বাবু সোনার হত্যা নিয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক তার ফেসবুক টাইমলাইনে যা বলেছেন যা হুবুহু তুলে ধড়া হলো…
[বাবু সোনা/ এড. রথীস চন্দ্র ভৌমিক
একজন সদা হাস্যজ্বল বহুবিধ প্রতিভার অধিকারি ছিলেন।রংপুর বিভাগের ডিআইজি হিসাবে যোগদানের পর ২০১৬ সালে উনি একটি অনুষ্ঠানে আমাকে প্রধান অতিথি হিসাবে দাওয়াত করেন।সেই অনুষ্ঠানে আমি বক্তবে বলেছিলাম” সন্ত্র্রাস ও জঙ্গি দমনে আপনি সারথি হিসাবে আমার সহযোদ্ধা হবেন।”তিনি কথা রেখেছিলেন।আমারা পরস্পরকে সহযোগিতা করতাম কিন্তু সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের চেয়েও ভয়ংকর অস্ত্র পরকীয়ার কাছে তিনি হেরে গেলেন।
গত ৩০/৩/১৮ তারিখ হতে তিনি নিখোঁজ হন।নিখোঁজ হওয়ার পর সবাই বলাবলি করছিলো,তিনি যেহেতু জঙ্গি মামলার পিপি ছিলেন,তাই জঙ্গিরাই তাকে অপহরণ করেছে। কিন্তু ঘটনাস্হল পরিদর্শনের পরই বুঝতে পারি,ঘটনার পিছনে পরকীয়া আছে,তাই স্ত্রী কে মামলার বাদী না করে তার ভাইকে বাদী করা হয়। প্রবাদ আছে,প্রতিটা হত্যার পিছনে মহিলা থাকে, তা আবারও প্রমান হলো।
বাবু সোনাকে ঈশ্বর স্বর্গে শান্তিতে রাখুক এবং
প্রতিটি পরিবার সৎ জীবন যাপন করুক এই কামনা করি।]

উল্লেখ্য যে নিজের স্ত্রী ও তার প্রেমিকের জবানবন্দি অনুযায়ী রংপুরের বিশেষ পিপি রথিশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে রংপুর নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়ার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবু সোনার স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম জাফরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রংপুর র্যাব-১৩-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আরমিন রাব্বি জানান, নিহত আইনজীবী বাবু সোনার স্ত্রী ও তার প্রেমিকের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে, তাদের দেখানো জায়গা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
দীপা ভৌমিক ও কামরুল ইসলাম জাফরী একে অপরের সহকর্মী। তারা দুজনই তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
নিহতের ছোট ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিকসহ স্বজনেরা পায়ের জুতা দেখে বাবু সোনার লাশ শনাক্ত করেন।
র্যাব জানায়, এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে দীপা ভৌমিককে তাদের নগরীর বাবুপাড়ার বাসা থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার স্বামীর লাশ তাজহাট মোল্লাপাড়া মহল্লার তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম জাফরীর বড় ভাই খাদেমুল ইসলাম জাফরীর নির্মাণাধীন বাসায় আছে। পরে দীপা ভৌমিক ও কামরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে বস্তার মধ্যে বালুর ভেতরে লুকিয়ে রাখা লাশ উদ্ধার করা হয়।
লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, নিহত বাবু সোনার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক, ভগ্নিপতি অধ্যাপক ডা. অনিমেষ মজুমদারসহ অনেকে ঘটনাস্থলে যান। তারা বাবু সোনার লাশ শনাক্ত করেন।
রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, গত শুক্রবার (৩০ মার্চ) আইনজীবী বাবু সোনা নিখোঁজ হন। ঘটনাটি জানানোর পর থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এর পরদিন শনিবার (৩১ মার্চ) নগরীর রাধাবল্লভ এলাকার বাসা থেকে বাবু সোনার স্ত্রী দীপা ভৌমিকের প্রেমিক কামরুল ইসলাম জাফরীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর দীপা ভৌমিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়ার পর বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করা হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোর ৬টার দিকে লাশটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা। লাশ পচন ধরায় গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি তুলতে দেওয়া হয়নি।
আজ বুধবার (৪ এপ্রিল) রংপুরে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহাম্মেদ প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*