Sunday , September 23 2018
Home / বাংলাদেশ / ঢাকা বিভাগ / ‘আমাকে খুব কাছের মানুষই হত্যা করবে’ কে সেই মানুষ ?

‘আমাকে খুব কাছের মানুষই হত্যা করবে’ কে সেই মানুষ ?

ডেস্ক – প্রিয় শহর ময়মনসিংহের ভাটিকাশর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কবি ও লেখক মাহবুবুল হক শাকিল। বুধবার বিকালে কাচিঝুলি আঞ্জুমান ঈদগাহ্ মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাযার পর তার দাফন সম্পন্ন হয়।

From The Web

Generate A High-Quality User Experience with Revcontent
Sponsored by Revcontent

এর আগে শাকিলের মরদেহ দুপুর আড়াইটায় তার বাঘমারা বাসায় পৌঁছায়। সেসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বাবা-মাসহ স্বজনরা। তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভীড় করেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ স্থানীয় মানুষ। বিকাল ৪ থেকে ৫টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল মাঠে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক-ছাত্র সংগঠন।

এদিকে শাকিলের মৃত্যুর রহস্যজট খুলতে মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশেষ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানের সামদদো জাপানি রেস্তোয়া থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত সিআইডির ৪ টি দল ঘটনাস্থল থেকে ২ ব্যাগ আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আকস্মিক এই  মৃত্যুর রহস্যজট খুলতে পুলিশ খুঁজছে শাকিলের সাথে রাতে রেস্তেরায় আসা এক বন্ধুকে।

শাকিলের মৃত্যুর ঘটনায় গুলশানের সামদাদো রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বাবলুসহ সাত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে ঘটনার পর পুলিশ গুলশানের সামদাদো রেস্টুরেন্টের কর্মচারীসহ ছয়জনের কাছে শাকিলের মৃত্যুর বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছে। তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে গুলশান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সামদাদো রোস্তোয়ায় আসেন মাহবুবুল হক শাকিল। এসময় তার সঙ্গে এক বন্ধুও ছিলেন। সিসি টিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সেই বন্ধুকে চিহ্নিত করা এবং তিনি কতক্ষণ শাকিলের সঙ্গে ছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের মধ্যে রহস্যজনক কোনো ঘটনা ঘটে খাকলে সেটিও বের করা হবে।তবে শাকিলের মৃত্যু রহস্য নিয়ে এ মুহূর্তে ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার আগে এবং পুলিশের তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি সূত্রটি।

শাকিলের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ-সিআইডি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। সামদোদো রেস্টুরেন্টে শাকিলের লাশ দেখতে এসে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে শাকিলের লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। বিষয়টি আপাতত সিআইডি-পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

শাকিলের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে শোকের আবহ। একইসাথে  চলছে নানা গুঞ্জন। মৃত্যুর আগে মাহবুবুল হক শাকিল গত ২৫শে ফেব্রুয়ারীর এক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন তার ভালোলাগার এক মানুষই তাকে হত্যা করবে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উঠছে বিভিন্ন প্রশ্ন। অনেকে বলা বলি করছেন কে সেই মানুষ ?

shakil

২৫ ফেব্রুয়ারীর ফেসবুক পোস্টে মাহবুবুল হক শাকিল লিখেছিলেন,

shakil-fb-status

“সম্ভবত খুব শীঘ্রই মারা যাব আমি ঘাতকের হাতে, অসাধারণ পরিপক্ক এই হত্যা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত আমার খুব বেশি ভালোলাগার একজন মানুষ। তাকে একটি পত্র লিখে সিলগালা করে রেখে দিয়েছি খুবই আস্থাভাজন আরেকজনের কাছে। আমি মরে যাবার পর তাকে পৌছবে বলে। আমার না থাকা জুড়ে থাকব আরো বেশি আমি…….”

শাকিলের ময়নাতদন্ত বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগে সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড মাহবুবুল হক শাকিলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

ময়নাতদন্তকারী মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ছিলেন ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার সোহেল মাহমুদ।

ময়নাতদন্ত শেষ তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পাকস্থলির আলামত মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া হার্ট, রক্ত ও ইউরিন পরীক্ষার জন্য আলামত হিস্ট্রো প্যাথলজি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়া হবে। মেডিক্যাল বোর্ডের অপর দুই সদস্যরা হলেন সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার আ ফ ম শফিউজ্জামান ও প্রভাষক প্রদীপ কুমার।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর গুলশান-২ এর হোটেল সামদাদো থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সামদাদো হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে মাহবুবুল হক শাকিল ওই হোটেলের একটি কক্ষে ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল কর্মকর্তারা কক্ষটিতে গিয়ে শাকিলের মরদেহ দেখতে পান।

উল্লেখ্য, শাকিল অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে পালন করছিলেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন শাকিল। পেশায় আইনজীবী তার বাবা ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর মা পেশায় শিক্ষক। শাকিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। প্রয়াত শাকিল এবং আইনজীবী স্ত্রীর সংসারে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।shakil-1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*