Sunday , September 23 2018
Home / জীবনযাপন / উদ্বোধনের আগেই খুলেছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর গে

উদ্বোধনের আগেই খুলেছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর গে

রংপুর ও লালমনিরহাট এ দুই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর কাজ এ বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু মানুষের সেই আশা ভঙ্গ করেছে সেতু নির্মাণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের আগেই সেতুর গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিদিন সেতু দিয়ে যানবাহনসহ মানুষ চলাচল করছে। এ সুযোগে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। অন্যদিকে তিস্তা খেয়াঘাটের ইজারাদার বঞ্চিত হচ্ছেন আয় থেকে। সেতু খুলে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী বৈঠকে (একনেক) তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতুর নির্মাণে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর গ্রামীণ যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর ও লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা রুটে ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সেতু নির্মাণ এলাকার দুই পাশে রংপুরের গঙ্গাচড়া (এলজিইডি) হলেও অদৃশ্য কারণে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় লালমনিরহাট এলজিইডি। সেতুটি নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন। প্রথমে সেতুটি নির্মাণের সময়সীমা ছিল দুই বছর চার মাস। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে এ বছরের জানুয়ারিতে তা শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী সেতু উদ্বোধন করবেন এ প্রতীক্ষায় আছে মানুষজন। সেতু উদ্বোধন হলে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে রংপুর তথা দেশের যে কোনো জেলায় যাতায়াত করতে পারবেন। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিতেও আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষা না করে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ সেতু দিয়ে চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছে দুই পাশের গেট। ফলে বিভিন্ন যানবাহনসহ মানুষ চলাচল করছে। সেতু খুলে দেওয়ায় মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠলে লালমনিরহাট জেলার এলজিইডি থেকে রংপুর জেলা পুলিশ সুপারকে অজ্ঞাত ব্যক্তি কর্তৃক সেতুর গেট খুলে দেওয়ার জন্য ১৬ এপ্রিল চিঠি দেয়। চিঠি দেওয়ার পর সেতু দিয়ে চলাচল অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, সেতু দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন ও মানুষজন চলাচল করছে। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সেতু উদ্বোধনের আগেই খুলে দেওয়া ঠিক হয়নি। এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জিএমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ঢাকায় চলে আসায় কে বা কারা গেট খুলে দিয়েছে, সেটা আমাদের জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*