Wednesday , September 19 2018
Home / বাংলাদেশ / কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ত্রাণ পাচ্ছে না বানভাসীরা

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ত্রাণ পাচ্ছে না বানভাসীরা

কুড়িগ্রাম ঘুড়ে এসে সজল:

কুড়িগ্রামে টানা ১০ দিন ধরে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটর ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও। বন্যার পানিতে ডুবে গত ২ দিনে কুড়িগ্রাম সদর ও নাগেশ্বরী উপজেলায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে দর্বিসহ জীবন যাপন করছে। নীচু এলাকার লোকজন ঘর-বাড়ী ছেড়ে উচু সড়ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলেও আশ্রয়স্থলে পানি উঠায় আরো দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসীদের। বেশিরভাগ পরিবার এখনো গবাদি পশু নিয়ে ঘর-বাড়ীতে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকটে আছে এসব এলাকার মানুষ। তলিয়ে গেছে ৫শ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ২শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে ভেসে যাচ্ছে নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার ঘর-বাড়ী।

কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ভেলাকোপা ব্রীজের সংযোগ সড়কটি ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন হয়ে পড়েছে ১০ গ্রামের মানুষের। সদর উপজেলার নওদাবস চরে বন্যার পানির মধ্যেই বসবাস করছে শতাধিক পরিবার। অনেক পরিবার তাদের গবাদি পশু উচু স্থানে আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এসেছে। দীর্ঘ বন্যায় হাতে কাজ না থাকায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে পরিবার গুলো।

নওদাবস চরের আজগার আলী জানায়, বন্যার কারনে হাস-মুরগী মরে গেছে। পরিবারে ৫ জনের খাবার জোটাতে হয়। হাতে কাজ নেই। ধার-দেনা করে আর কতদিন চলে। আমরাতো বাংলাদেশের নাগরিক। সরকার কি আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকাবে না।

কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে আশ্রয় নেয়া আবেদ আলী জানায়, বাড়িতে ৭/৮ দিন কষ্ট করে থাকার পর ২ দিন ধরে পাকা সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছি। কোন চেয়ারম্যান মেম্বারের দেখা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানায়, সরকারী ভাবে বরাদ্দ পাওয়া ৫শ মেট্রিক টন চাউলের মধ্যে ৪শ মেট্রিক টন চাউল ও ৮ লাখ টাকার মধ্যে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরন করা হয়েছে। নতুন করে আরো বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সরকারী ভাবে স্বপ্ল পরিসরে ত্রান তৎপরতা শুরু হলেও তা ভাগ্যে জুটছে না অনেক বানভাসীর। ত্রান না পাওয়ার অভিযোগ সর্বত্রই। একবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে অনেক পরিবার।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ধরলা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর পানি।

 

FB_IMG_1469693620535

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*