Monday , July 23 2018
Home / বাংলাদেশ / চট্টগ্রাম বিভাগ / কুবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অাহত ১০

কুবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অাহত ১০

আল আমিন, কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কতৃক আয়োজিত বিজয় দিবস ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছ। বৃহষ্পতিবার বিকেল এ সংঘর্ষের ঘটনায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ দুই গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়ছেন বলে জানা যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে মারামারিতে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের নেতাদের অধিকাংশই ক্যাম্পাসের ১ম ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে আছেন। ছাত্রলীগের প্রকৃত রাজনীতিতে বিচরণ না করাই দলবাজি কারনে তাদেরক কমিটিতে নিয়োগ দেওয়ার ফলে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে কাজী নজরুল ইসলাম হলের কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এবং শহীদ ধীরেদ্রনাথ দত্ত হলের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদর মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালীন সময় তুছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের সাথে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজন বরণ বিশ্বাসের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।

এক পর্যায়ে মাজেদের অনুসারী ও উপ প্রচার সম্পাদক আহমদ আলী বুখারী স্বজন বরণকে স্ট্যাম্প দিয়ে কোমরে আঘাত করে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মী সিফাত ফয়েজ এগিয়ে এল, মাজেদের অনুসারী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ ইসলাম গল্প, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সৈকত, উপ সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মুনতাসির আহমেদ হৃদয় স্বজনের অনুসারী সিফাত ফয়েজ ও আতিকুর রহমানকে স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পরেন তারা। গুরুতর আহত হওয়ায় আতিকুর রহমানকে তাৎক্ষনিক কুমিল্লা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হাসান সবুজ তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাদেরকে হলে ফিরে যাওয়ার জন্য বলেন। হলে ফেরার পথে শালবন বিহারের সামনে রেজাউল ইসলাম মাজেদ নিজ অনুসারী আলী বুখারী, শাওন ও গল্পক নিয়ে আবারও স্বজন বরণের উপর হামলা চালান। স্বজন বরণ বিশ্বাসকে মাটিতে ফেলে ক্রিকেটের ব্যাট দিয় বেধাড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। গুরুতর আহত হওয়ায় স্বজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘কোন গ্রুপ নয়, খেলার ভিতর একটু হাতাহাতি হয়েছে। আমরা বসে সমাধান করব।’
শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হাসান সবুজ বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম এবং আমি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি। যারা মারামারি করছে তাদের সকলকে আমি দেখেছি। এ বিষয় নিয়ে কেন্দ্রের সাথে আলাচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘খেলাক কেন্দ্র করে ছাত্রদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। আমি ঘটনা শুনেই এ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছি। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। এটি যেন বাড়াবাড়ি না হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*