Thursday , October 18 2018
Home / বাংলাদেশ / কোথাও নেই তারা!

কোথাও নেই তারা!

বিশেষ প্রতিনিধি:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ, ফার্মগেট, গুলিস্তানসহ পুরো ঢাকাতেই সম্মেলন উপলক্ষে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, পোস্টার, বিলবোর্ড, তোরণ টানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা ব্যক্তি উদ্যাগেও পোস্টার, ব্যানার টানিয়েছেন।
তবে এসব প্রচারণার কোথাও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, সাবেক সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় ৪ নেতার কোনো চিহ্ন নেই। জিল্লুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাকসহ প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতাদের অস্তিত্বও দেখা যায়নি কোনো প্রচারণায়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবিসমেত অসংখ্য পোস্টার, ব্যানার থাকলেও কোথাও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের উপস্থিতি নেই।
এছাড়া ৬ দফা, মুক্তিযুদ্ধসহ আওয়ামী লীগের গৌরবময় ঐতিহ্যের উপস্থাপনাও দেখা যায়নি এবারের সম্মেলনের প্রচারণায়।
এ নিয়ে প্রকাশ্যে নেতাকর্মীরা কোনো কথা না বললেও অনেকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক নেতা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যত নেতা সজীব ওয়াজেদ জয়কে উপস্থাপন করা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু অতীতে যারা আওয়ামী লীগের শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তাদেরও তুলে ধরার প্রয়োজন ছিল। এতে করে দল হিসেবে আওয়ামী লীগই সম্মানিত হত।
তিনি বলেন, প্রচারণায় আওয়ামী লীগের বর্তমান সফলতা তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতের ঐতিহ্যও তুলে ধরলে বিদেশি অতিথিরা আমাদের রাজনৈতিক গভীরতা সম্পর্কে জানতেন।
দলের আরেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলে সবাই তোষামোদি করতে ব্যস্ত। সে কারণে অনেকে যৌক্তিক বিষয়েও কথা বলেন না। না হলে জাতীয় চার নেতার সন্তানরা দলে ভালো অবস্থানে থাকার পরও এমন হওয়ার কথা ছিল না।
সম্মেলনের সাজসজ্জা ও প্রচারণায় আওয়ামী লীগের শ্রেষ্ঠ নেতাদের উপস্থাপনা না করার কারণ জানতে চাইলে মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির সদস্য সচিব মীর্জা আজম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আসলে এটার কোনো কারণ নেই। তবে মঞ্চের যে এলইডি থাকবে তাতে জাতীয় চার নেতার ছবি থাকবে। আর মঞ্চের দুই পাশে দুটি উইং থাকবে। সেখানে এক উইংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতীয় চার নেতা থাকবেন, আরেকপাশের উইংয়ে বঙ্গবন্ধুর পাশে প্রতিষ্ঠাতা চার নেতা থাকবেন।
মীর্জা আজম বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলন বা জাতীয় ক্ষেত্রে সাধারণত জাতীয় চার নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা চার নেতাদের জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকী ছাড়া তাদের তেমনভাবে প্রচারণায় আনা হয় না। এবারও তেমনি হয়েছে।
তবে এবারের ব্যক্তিগত প্রচারণায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। সেদিকেই গুরুত্ব দিয়ে মীর্জা আজম বলেন, অন্যান্যবার দেখা যেত ব্যক্তিগত প্রচারণা। বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীর ছবি ছোট করে দিয়ে নিচের পর্যায়ের নেতারাও বড় ছবি দিয়ে প্রচারণা চালাতেন। কিন্তু এবার আমরা তাতে শৃংখলা আনতে পেরেছি। এবার বঙ্গবন্ধু পরিবারের বাইরে কারো ছবি ব্যবহার করতে পারেনি কেউ।alleguee

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*