Monday , June 18 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / ক্যাফেটেরিয়া চালুর উদ্যোগ নেই, আছে দায়সারা কমিটি গঠন

ক্যাফেটেরিয়া চালুর উদ্যোগ নেই, আছে দায়সারা কমিটি গঠন

সজীব হোসাইন,brur-cafe20161212105758

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দুই কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ক্যাফেটেরিয়া ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে তিন বছর আগে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বারবার ক্যাফেটেরিয়া চালুর আশ্বাস দিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করলেও কমিটির আহ্বায়কদের দেখা যায় দায়সারা ভূমিকায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অনীহা ও গাফিলতির কারণে প্রতিষ্ঠার নয় বছরেও চালু হয়নি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ক্যাফেটেরিয়া। ক্যাফেটরিয়া চালুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন একাধিকবার আন্দোলন করলেও প্রশাসনের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় এর মূল পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ২০০৯-১২ নেওয়া ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে ছিল দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াটিও। এজন্য দুই কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তি দিয়ে প্রথম পর্যায়ে দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে ২০১২ সালের মধ্যে এই নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর সময় দুই দফা বাড়ানো হয় এবং ২০১৩ সালে ক্যাফেটেরিয়াটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তবে ২০১৬ সালের শেষ দিকেও এটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবদুল জলিল মিয়ার সময় থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাফেটরিয়া চালু দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেননি। এরপর বর্তমান উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন-নবী দায়িত্ব গ্রহণ করার প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হতে চলছে।

বর্তমান উপাচার্য বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে ক্যাফেটেরিয়া ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও পরিবর্তন করলেও কার্যত তা লোক দেখানো বলে অভিযোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

গত বছরের ২৩ এপ্রিল ক্যাফেটেরিয়া চালুর জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কমিটি গঠনের ৪ মাস পর (২ সেপ্টেম্বর) ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ এনে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান।

পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চের দিকে কলা অনুষদের ডিন ড.সাইদুল হককে আহ্বায়ক এবং সে সময়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) মো.শাহীনুর রহমানকে দায়িত্ব দিলেও তারাও এখনও ক্যাফেটেরিয়াটি চালুর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেননি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাফেটেরিয়া চালু না থাকায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য দুইটি এবং ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হল চালু রয়েছে। তবে ডাইনিংয়ের খাবার মান খারাপ হওয়ায় এবং হল তিনটিতে ক্যান্টিন চালু না থাকায় বাধ্য হয়ে বাহির থেকে উচ্চ মূল্যে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের।

ক্ষোভ প্রকাশ করে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী   জানান, কেবল আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের ক্যাফেটরিয়া চালুর তাগিদ দেখা যায়। আন্দোলন শেষ হলেই সবাই ভুলে যায়। তবে বিভিন্ন সময়ে উপাচার্য এবং শিক্ষকদের ক্যাফেটরিয়া ব্যবহার হতে দেখা যায়।

কথা বললে ক্যাফেটেরিয়া ব্যবস্থাপনা কমিটির নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য  জানান, উপাচার্য এবং আহ্বায়ক দুইজনের আন্তরিকতার অভাবেই ক্যাফেটেরিয়া চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্যাফেটরিয়া চালুর কাজ বেশ এগিয়েই আছে।

এ ব্যাপারে কথা বললে ক্যাফেটেরিয়া ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক কলা অনুষদের ডিন ড. সাইদুল হকের দায়সারা বক্তব্য মেলে। নিজেই জানেন না তিনি এখন ক্যাফেটরিয়ার আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন কি না।

এই শিক্ষক আরো জানান, ক্যাফেটেরিয়া চালুর সিদ্ধান্ত এখন কী অবস্থায় সেটা তার জানা নেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*