Thursday , October 18 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / চা বিক্রেতা রংপুরের এক হিরু মামার গল্প…

চা বিক্রেতা রংপুরের এক হিরু মামার গল্প…

শাহরিয়ার মিম(রংপুর):
‘মামা, এই নেন টাকা। আমাদের দুই কাপ চা দেন। ’ এ কথা বলে এক তরুণী পঞ্চাশ টাকার একটি নোট এগিয়ে দিতেই দোকানি হেসে বলেন, ‘মামা, আমি অ্যাডভান্স টাকা নেই না। আয়েশ কইরা গরম চায়ে ফুঁ দিয়া খাওয়া শেষ করে টাকা দিয়েন। এইডাই আমার ব্যবসার ধর্ম। ’

দোকানির কথা পেয়ে লজ্জা পেয়ে তরুণীরা বললেন, ‌‘আচ্ছা, ঠিক আছে মামা। দেন আগে চা পান করি, তারপর বিল দেবো। ’

৫ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে রংপুর মহানগরীর টাউনহলের বিপরীতে উত্তর প্রান্তে একটি ছোট চায়ের দোকানে দোকানি ও গ্রাহকদের মধ্যে এমন কথোপকথন কানে আসে প্রতিবেদকের।

ছোট্ট একটি টং দোকানে বড় একটি ৩টি হিটারের ক্যাটলিটে পানি ও দুধ গরম করা হচ্ছে।হিটারের তীব্রতর তাপে সাদা দুধ লালচে আকার ধারণ করেছে। পানির ক্যাটলির ঢাকনা তুলে দুধের ক্যাটলি থেকে গরম দুধ মগে করে তুলে আরেকটি ক্যাটলিতে ঢেলে রাখলেন দোকানি। এবার ব্যস্ত হাতে দুই ডজনেরও বেশি কাপ থরে থরে সাজিয়ে রেখে প্রথমে চিনি, দুধ ও চায়ের পানি ঢাললেন। দ্রুতগতিতে প্রতিটি কাপে পরিমাণ মতো সব উপাদান দিয়ে চা তৈরি করার পর খুব যন্তে গ্রাহকদের হাতে চায়ের কাপ তুলে দেন।এই চা বিক্রেতা।অধিকাংশ গ্রাহক এক কাপ গরম চা পান করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন আরেক কাপ চা পান করেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বিদায় নিচ্ছেন।

চা বিক্রেতার নাম মো: মোক্তারুল ইসলাম হিরু।রংপুর টাউনহলেরর বিপরীতে  বন্ধ হওয়া লক্ষী হলের আশেপাশের দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মধ্যবয়সী হিরু ৬-৭ বছর ধরে এই লক্ষী হলের পাশে চা ও শুকনো খাবার বিক্রির কাজ করেন।

এক সময় রংপুর পৌর বাজারে চালের বস্তার ব্যাবসা করলেও মহাজনের কাছে প্রতারিত হয়ে হতাশ হয়ে দীর্ঘদিন বেকার বসে থাকার পরে ১৯৯৪ সালে আবারো জীবন সংগ্রামের তাগিদে বিভিন্ন মারফতে টাকা সংগ্রহ করে মাত্র ৮০ হাজার টাকা দিয়ে রংপুর জেলা পরিষদের সামনে ফলের ব্যাবসা শুরু করেন তিনি।তবে ভাগ্য দেবতা এখানেও তার সহায়ক হয়নি আবারো ব্যাবসায়ি প্রতিস্টান চুরি হয়।তারপর আবারো দীর্ঘদিন বসে ছিলেন তিনি।পরবর্তীতে দু মুঠো খাবারের তাহিদে আবারো ধাড়-দেনা করে মাত্র ৫হাজার টাকা দিয়ে লক্ষী হলের পাশে ১টি ছোট চায়ের দোকান দেন তিনি। এই চায়ের দোকান পরিচালনার কয়েকবছর পর
আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার চায়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা অবধি খোলা থাকে এই চায়ের দোকান।প্রতিদিন ১দেড়শ কাপ চা বিক্রয় করেন তিনি।শুধু কি চা আছে তার দোকানে চায়ের ও আছে বিভিন্ন ক্যাটাগরি যারমধ্যে অন্যতম কালো জিরা চা (১০টাকা),মালটা চা(১৫টাকা),আপেল চা(১৫টাকা),কমলা চা(১৫টাকা),তুলসী চা(১৫টাকা),রসুন চা(১০টাকা),গ্রীন চা (১০টাকা),অর্জুন চা(১৫টাকা),ব্লাক চা (১০টাকা),পুদিনা চা (১০টাকা),ব্লাক কফি(১০টাকা),স্পেশাল কফি(২০টাকা),হরলিকস চা (২০টাকা)দামে প্রতিদিন বিক্রয় করেন তিনি।

হিরু মামার এই ছোট চায়ের দোকানে চা পান করে যেমন প্রতিদিন অনেক মানুষের কর্মময় দিন শুরু হয়।তেমনি শতাধিক তরুণ-তরুণীদের বন্ধুত্তের বন্ধন সুদৃঢ় হয়।

চা বিক্রেতা এক হিরু

চা তৈরি করেছেন হিরু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*