Saturday , August 18 2018
Home / বাংলাদেশ / ছাত্রলীগ কর্তৃক রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ

ছাত্রলীগ কর্তৃক রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ

‘রাত ২টায় ডেকে বলা হয়, এক প্যাকেট সিগারেট এনে দে। রাজি না হলে বেদম মারধর করা হয়। রুমে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে। বিভিন্ন অজুহাতে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে রড দিয়ে পেটানো হয়। বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্যে হলেও কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে।’ কথাগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) প্রথম বর্ষের কয়েকজন ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের।

তাদের অভিযোগ- ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে গত জানুয়ারি থেকে মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের ওপর এমন অমানুষিক আচরণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজের হেলিপ্যাড (জিয়া ছাত্রাবাস) হলের প্রথম বর্ষের ৭০ জন ছাত্র সিট বরাদ্দ পেলেও ছাত্রলীগ নামধারী নেতাদের অত্যাচারে এরই মধ্যে অন্তত ৪০ জন হল ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। তাদের কেউ ভাড়া বাসায়, কেউবা মেসে অবস্থান করছেন। হোস্টেল ছাড়ার কারণেও অনেককে ভয়ভীতি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেলিপ্যাড হল ত্যাগ করা প্রথম বর্ষের তিন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত ২টা-৩টার সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহার সমর্থক কয়েকজন নেতাকর্মী আমাদের রুমে গিয়ে ডেকে তোলেন। বলেন, দোকানে গিয়ে সিগারেট নিয়ে এসো। টাকা নেই বা ও অত রাতে দোকান খোলা পাব কি-না বলতেই শুরু হয় চড়-থাপ্পড়। এরপর তারা বলেন, যেখান থেকে পারিস নিয়ে আয়। এ ছাড়া প্রথম যখন আমরা হলে উঠি সে সময় খাট বাবদ ওই গ্রুপটি ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছে। প্রাকটিক্যাল পরীক্ষার জন্য কঙ্কাল তাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক কিনতে হয়। বাইরে ৩০ হাজার টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হবে। তাদের কাছ থেকে না কিনলে ক্লাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এ ছাড়া আমাদের লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাদের প্রাকটিক্যাল খাতা লিখে নেয়। এ ধরনের নির্যাতনে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। তাই বিষয়টি আমাদের অভিভাবকদের জানাই।’

গতকাল রোববার রংপুর মেডিকেল কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এখানে পড়তে এসেছি। বাবা-মা কোনোদিন আমাদের গায়ে হাত দেননি। অথচ এখানে গত ৪ মাস থেকে আমরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। তাদের নির্যাতনে কয়েকজন ছাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, ছেলেদের কাছে এসব শুনে আর বাড়িতে থাকতে পারলাম না। তাই চলে এসে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে তাকে বিষয়গুলো জানাই।
অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে কলেজ অধ্যক্ষ গত বৃহস্পতিবার এনাটমি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সেলিনা আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেন। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। শনিবার কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে দাবি জানানো হয়, তদন্ত কমিটির কার্যক্রমকে কোনোভাবেই কেউ যেন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (ফাইল ছবি)

অধ্যক্ষ ডা. নুর ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ অথবা অন্য যে কেউ জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে আমি এবং ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়। আমার বা ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের কাজ কেউ করে থাকলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।

(খবরের বিস্তারিত দৈনিক সমকাল অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*