Saturday , June 23 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / ডিমলায় বিরোধপূর্ন জমির ধান লুটপাটে প্রভাবশালীদের কৌশল ফাস

ডিমলায় বিরোধপূর্ন জমির ধান লুটপাটে প্রভাবশালীদের কৌশল ফাস

dim-pic-1-19-400x300

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ছাতুনামা গ্রামে প্রভাবশালী কর্তৃক বিরোধপূর্ন জমির পাকা ধান লুটপাট করার সু-কৌশল অবশেষে ফাস হয়ে পড়েছে। প্রভাবশালীরা ওই ঘটনায় ঘর জ্বালানীর একটি মিথ্যে মামলার পর রাতের আধারে একটি সন্যাসী প্রতিমার মন্দির প্রতিষ্ঠা করে প্রতিপক্ষের জমির ধান কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধান কাটতে কেউ বাধা দিতে এলে রাতের আধারে গড়ে তোলা মন্দির ভাংচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকী দেয়ায় হয়। ফলে কেউ জমির ধান লুটপাটে বাধা দিতে পারেনি।

অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহল প্রতিপক্ষের জমির পাকা ধান কেটে নিজ ঘরে তুলতে সুকৌশলে উক্ত সন্যাসী মন্দির স্থাপন করে ধান কেটে তাদের ঘরে তুলে নেয়। অথচ রাতের আধারে স্থাপন করা ওই মন্দিরের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোন হিন্দু পরিবারের বসবাস নেই। এ ঘটনায় ডিমলা উপজেলার হিন্দু ধর্মের লোকজন এর বিরোধীতা করে উক্ত কথিত মন্দির অপসারন ও হিন্দু ধর্মের মন্দির ব্যবহার করে যারা ফায়দা লুটছে তাদের বিচার দাবি করে।

এদিকে আজ শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন ডিমলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) মিল্টন চন্দ্র রায়,ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন,ডিমলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, নাউতারা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন, ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান, উক্ত ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজ্জাম্মেল হক, উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মুহিত চন্দ্র রায়, খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের সুনীল চন্দ্র রায় প্রমুখ। তারা রাতের আধারে স্থাপিত সন্যাসী মন্দিরের প্রতিমাটি বিসর্জনের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি স্থাপিত ঘরটি দুই দিনের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।

জানা যায়, এলাকার কলিম উদ্দিন ১৯৬৩ সালের জমির রেকর্ড ও ১৯৮৭ সালের মাঠ জরিপে ছাতুনামা মৌজার ৮৪৪, ৮৪৮ দাগের ৫ দশমিক ৭৪ একর সম্পতি তার পৈত্রিক সুত্রে রেকর্ড ভুক্ত। যা তারা অদ্যাবদী ভোগ দখল করে আসছে। এ অবস্থায় ওই জমির মালিকানা দাবি করে একই এলাকার ফিরোজুল ইসলাম। এতে বিরোধের সৃস্টি হয়। এ অবস্থায় কলিম উদ্দিন জমির কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ে ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে আবেদন করে। গ্রাম্য আদালত উভয়পক্ষকে হাজির হতে তিন দফায় নোটিশ জারী করে। কিন্তু ফিরোজুল ইসলাম গ্রাম্য আদালতে হাজির না হয়ে তার বাড়ির রান্না ঘরে গত ৪ নবেম্বর দুপুরে নিজেই অগ্নি সংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় তার পরিবারের লোকজন বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিল। ফিরোজুল তার টিনের ঘরটি রেখে শুধু রান্না ঘরে আগুন দেয়। যার স্থির চিত্র ও ভিডিও ধারন করে রাখে এলাকাবাসী।

এরপর বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে গত ৫ নবেম্বর ডিমলা থানায় একটি মামলা (নম্বর -৬) দায়ের করে। মামলায় নামীয় কলিমুদ্দিন সহ ২৮ ও অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়। ফিরোজুল ইসলাম নিজে তার বাড়ির রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য এলাকার লোকজন মোবাইলে ভিডিও ধারন করে রাখলে ফিরোজুল তার মামলা নিয়ে বেকায়দায় পড়ে।

এদিকে জমির আমন ধান কাটাই মাড়াইয়ের সময় চলে আসায় জমির ধান কেটে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার ঘোষনা দেয় আবার ফিরোজুল। অভিযোগ উঠেছে এ জন্য স্থানীয় কিছু টাউট বাটপার ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রাতের আধারে গত ১৬ নবেম্বর বিরোধপূর্ন জমিতে নতুন টিন দিয়ে ঘর উত্তোলন করে সেখানে একটি সন্যাসী প্রতিমা স্থাপন করা হয়। অথচ ওই এলাকার দুই কিলোমিটার জুড়ে কোন সনাতন ধর্মের পরিবার বসবাস করেনা।

অপরদিকে কলিম উদ্দিন অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন গত বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে উক্ত স্থানে মন্দির দেখে অবাক হয়ে পড়ি। এ সময় ফিরোজুল ঘোষনার মাধ্যমে হুমকী দেয় ধান কাটতে বাধা দিতে এলে মন্দিরে আগুন দিয়ে তোদের আসামী করা হবে। এরপর ওই দিন সকাল ১০টায় ফিরোজুল প্রভাবশালীদের লোকজন নিয়ে তার চার বিঘা জমির ৮০ মন ধান কেটে নিজ বাড়িতে তুলে নেয়। বাধা দেয়ার কারো সাহস হয়নি। ফলে একদিকে ফিরোজুলের  বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মিথ্যে মামলায় পুলিশী হয়রানী আর মন্দির তৈরি করে জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার উভয় সংকটে পড়ে তার পরিবারে পুরুষ সহ গ্রামের অন্যান্য পুরুষরা গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়।

তবে ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন অসৎ উদ্দ্যেশে মন্দিরটি রাতের আধারে তৈরি করার কারনে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতংক তৈরি করে সেখানে পুলিশ পাহাড়া বসানো হয়েছিল। ওসি ফিরোজুলের দায়ের করা তার বাড়ির অগ্নিকান্ডের মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান।

এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মিল্টন চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার সকালে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। স্থাপিত মন্দিরের প্রতিমাটি বিসর্জন দেয়া হয়েছে। উভয়পক্ষকে জমির কাগজপত্র নিয়ে ডেকেছি। জমির কাগজপত্র দেখে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*