Wednesday , September 26 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / ডিমলায় সনদ জালিয়াতিতে হচ্ছেটা কি ?

ডিমলায় সনদ জালিয়াতিতে হচ্ছেটা কি ?

jaliati-dim

সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে একজনের নামে অপরজন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার একটি মাদ্রাসায় প্রভাষকের চাকুরী করছে! সেই সঙ্গে সরকারি অংশের বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতিএক অভিযোগে জানা যায়,ডিমলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিন তিতপাড়া গ্রামের মালেক রোস্তমের ছেলে মহিবুল ইসলাম। তার নামে উপজেলার ছাতনাই বারবিশা দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (ইনডেক্স নং-২০৯৯৫৩৭) ও সুন্দরখাতা শফিকুল গনি স্বপন আলিম মাদ্রাসায় প্রভাষক (ইনডেক্স নং-২১০৩৩২৬) হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অভিযোগের সুত্র ধরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে মহিবুল ইসলাম ছাতনাই বারোবিশা দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছে। সুন্দরখাতা সফিকুল গনি স্বপন আলিম মাদ্রাসায় মহিবুল ইসলাম নামের কোন শিক্ষক কোন দিনও চাকরি করেননি।

অথচ মহিবুল ইসলামের নামের সনদে ইনডেক্স তৈরী করে সেই ইনডেক্সে চাকরি করছেন  মাজেদুল ইসলাম নামের অপর এক ব্যাক্তি।

অভিযোগ মতে এই মাজেদুল ইসলামের বাবা ইউনুছ আলী আবার উক্ত সফিকুল গনি স্বপন আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এখানেও প্রশ্ন উঠেছে ইউনুছ আলী একজন সরকারি চাকুরিজীবী। তিনি উক্ত উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনার পরিদর্শক। একজন সরকারি চাকরি জীবী হয়েও ওই মাদ্রাসা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে?

সুত্র অনুযায়ী দেখা যায় সুন্দরখাতা সফিকুল গনি স্বপন আলিম মাদ্রাসার ইসলামের ইতিহাসের শিক হিসেবে ২০১১ সালের ১ জুলাই ভুয়া শিক নিবন্ধন দিয়ে মাজেদুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটির এমপিও সিটে (মাসিক পে-অর্ডার) জীববিদ্যা বিষয়ের শিক হিসেবে মহিবুল ইসলামের নাম আসে। সেখানে সভাপতির ছেলে মাজেদুল ইসলামের কোন নাম বা নিবন্ধন এমন কি ইনডেক্স নম্বরও নেই।

অভিযোগ মতে মাজেদুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে প্রশ্ন থাকায় ডিমলা উপজেলার উত্তর ছাতনাই কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান সুপার মামুনুর রশিদ জাল কাগজ তৈরী করে মহিবুল ইসলামের সনদে গোপনে ইনডেক্স তৈরী করে। বর্তমানে মহিবুল ইসলামের ইনডেক্সের নম্বরে মাজেদুল ইসলাম সরকারি অংশের বেতর ও ভাতা উত্তোলন করছেন। অথচ মহিবুল ইসলাম কোন দিনও সুন্দরখাতা সফিকুল গনি স্বপন আলিম মাদ্রাসায় সহকারি শিক্ষক হিসেবে কোন সময় কর্মরত ছিলেন না।

বিভিন্ন জনের অভিযোগ মতে এসবের হোতা বর্তমানে উত্তর ছাতনাই কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মামুনুর রশিদ। তিনি এর পূর্বে সুন্দরখাতা সফিকুল গনি স্বপন মাদ্রাসার শরীর চর্চা শিক্ষক ছিলেন। সে সময় মামুনুর রশিদ নীলফামারীর জেলা শিক্ষা অফিসের সাবেক অফিস সহকারী আমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগসুত্র করে জেলা অফিসের স্মারক নম্বর ও জেলা শিক্ষা অফিসারের জাল স্বাক্ষর তৈরী করে ঢাকা পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই দুই নম্বরী কাজটি করা হয়।

অভিযোগ মতে শুধু এটি নয় ওই সময় উক্ত মামুনুর রশিদ ডিমলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ৪০ জনকে টাইমস্কেল ও ১৮ জন শিক্ষকের এমপিও ভুক্তি সরকারি অংশের বেতন প্রাপ্তির ইনডেক্স খুলে দেয় জাল স্বাক্ষরে।

সুন্দরখাতা সফিকুল গনি স্বপন আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তৈয়বুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে মহিবুল ইসলাম নামে কোন শিক্ষক নেই বা এই নামে কেউ চাকরি কোন দিন করেনি। সভাপতির ছেলে হওয়ায় বাধ্য হয়ে মহিবুল ইসলামের ইনডেক্স ব্যবহার করে মাজেদুল ইসলামকে ইসলামের ইতিহাসের শিক হিসেবে বিল প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মহাপরিচালক স্বারিত এমপিও সিটে জীববিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে মহিবুল ইসলামের নাম আসছে। আর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির ছেলে বিধায় মাজেদুল ইসলামকে বেতন প্রদান করা হচ্ছে অনিয়মের মাধ্যমে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলে সরকারি অংশের বেতনে অধ্যক্ষ হিসাবে আমি মাজেদুল ইসলামের কাগজে স্বার করতে এতোদিন অপারগতার প্রকাশ করি। ফলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি তার ছেলে মাজেদুল ইসলাম বিল উত্তোলন করতে না তিনি অন্য শিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাবিলে স্বার করতে রাজি হননি। ফলে বাধ্য হয়ে এসব সহ্য করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ছাতনাই বারবিশা দাখিল মাদ্রাসায় বর্তমানে কর্মরত সহকারী শিকক্ষ মহিবুল ইসলাম জানান, সুন্দরখাতা সফিকুল গনি স্বপন আলিম মাদ্রাসায় আমি কোন দিন চাকরি করিনি। অথচ  এখন জানতে পারছি আমার নামে ওই প্রতিষ্ঠানে নাম রয়েছে। এটি   ক¤িপউটারের ভুল না অন্য কেউ ভুয়া কাগজে এসব করেছে বলতে পারছি না। তিনি এটির সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন।

নীলফামারীর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। এটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*