Sunday , August 19 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / তারাগঞ্জে চাকলা সর: প্রা: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

তারাগঞ্জে চাকলা সর: প্রা: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

তারাগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধি :

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগমের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকতার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে ৮ কিলোমিটার দূরে চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩২৪জন। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৭জন।

এটি উপজেলার একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম র্দুনীতির ও শিক্ষকদের দায়িত্ব অবহেলা বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা থুবড়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের স্লিপের বরাদ্দকৃত চল্লিশ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগম কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে, দীর্ঘদিন ধরে আঞ্জুমান আরা ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়ম করে আসছে। ঠিক মতো তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। ঠিক মতো পাঠদান করানো হয় না। এমনকি নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

বানিয়াপাড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ নিরুপায় হয়ে ছাওয়া-ছোটক এ্যাটে ভর্তি করাছি। এটে একনা ক্লাসও হয় না। টাকা পায়সাও নাই যে ছাওয়াগুলাক প্রাইভেট পড়ামো। এমন সরকারি স্কুল সপ্তাহে চারদিন প্রধান শিক্ষকই থাকে না।’ গতকাল রোববার সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ মাঠে খেলছে। আবার কেউ ক্লাসে বসে আছে। শিক্ষকসভা কক্ষে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ছয়জন শিক্ষকের চার জন বসে আছে। ক্লাসের সময় অফিস কক্ষে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে একশিক্ষক ক্ষিপ্ত উঠেন। তিনি বলেন, যে গরম, ক্লাস করি ক্যামন করি। জীবন বাচা দায় হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠে খেলা করা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মুবিন ইসলাম বলে, হামরা দিনাও স্কুল আসি আর যাই, স্যারেরা ক্লাসে নেয় না। অফিসোত বসি চা খায়, গল্প করে। ক্লাসের কথা কইলে কয় যাও মাঠোত যায়া খেলা করো। আর বাড়িত ভালো করি পড়মেন। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা খাতুন বলে, ‘এ্যাটে ক্লাস হয় না, ঠিক মতো বিস্কুট দেয় না। দিনাও দিনাও স্যারেরা বিষ্কুট ব্যাগোত ঢুকি নিয়া যায়।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কয়েকজন অভিভাবক আড়ালে ডেকে বলেন, ভাই লেখালেখি করি কিছুই করতে পারবেন না।

এখানে আমরাই ভয়ে কিছু বলতে পারি না। কিসের জানতে চাইলে-তাঁরা জানান, প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগম স্থানীয় দুই দুর্বৃত্তের সহযোগিতায় নানা অনিয়ম, দায়িত্ব অবহেলা ও অসামাজিক কাজ করে আসছে। দুর্বত্তের ভয়ে কেউ তা প্রতিবাদ করে না। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই প্রধান শিক্ষক শুধু দায়িত্ব অবহেলাই করেন না। স্কুলে উপস্থিত না থেকে সহকারী শিক্ষক স¤্রাটের সঙ্গে অফিসের কাজের কথা বলে প্রায় ঘুরতে যায়। এমনকি ক্লাস ফাঁকি অফিসকক্ষে বসে যুগল আলপচারিতায় মগ্ন থাকে। এরই সুযোগ বিদ্যালয়ের বাকি সহকারী শিক্ষকেরা কাজে লাগিয়ে অলস সময় পার করেন অফিস কক্ষে বসে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষা শিক্ষাকাঠামোয় ব্যাপক ভাবে ভেঙে পড়ছে। ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমি সব সময় ব্যস্ত থাকি। চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপের টাকার বরাদ্দ বিষয়ে জানি। প্রধান শিক্ষক বরাদ্দ উত্তোলনও করেছেন। কিন্তু কাজ করেনি এটা আপনাদের কাছেই শুনলাম। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কাব্যশ্রী পাল বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। এখন জানলাম। বরাদ্দর টাকা আত্মসাৎ সহ সকল অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*