Thursday , October 18 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / ‘দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান,টাকা ছাড়া কিছু করে না’

‘দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান,টাকা ছাড়া কিছু করে না’

শাহরিয়ার মিম,রংপুর:

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণের বিএনপি ও জামাত পন্থী কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আগামী ২ মাসের মধ্যে অবসরে যাওয়ার আগেই কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাড়াহুড়া করে কম্পিউটার সেকশনে নিজের ছেলে বউমা আর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ছেলে ও শ্যালিকাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে লোক নিয়োগের পায়তারা চলছে।
বিএনপি ও জামাত পন্থী কর্মচারীর নিকট থেকে বড় আকারের অর্থ ঘুষ গ্রহণ করে শিক্ষা বোর্ডের কয়েক জন কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ায় পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীরা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বোর্ডে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছেন পদোন্নতি বঞ্চিতরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, বোর্ড চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না। এখানে প্রশাসনিক কোনো শৃঙ্খলা নাই। তাঁকে এক্ষেত্রে সহায়তা করেন শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের দুই কর্মকর্তা। একজন হলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর হোসেন ও স্কুল পরিদর্শক রবীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য। শিক্ষা বোর্ডকে তাঁরা বানিয়েছেন আয় ইনকামের উৎস।
সরকারি কর্মকর্তাদের তিন বছর পর পর বদলির বিধান থাকলেও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান ও বিদ্যালয় পরিদর্শক বরীন্দ্র ভট্টাচার্য অর্ধযুগ ধরে শিক্ষা বোর্ডেই কর্মরত আছেন। বদলির আদেশ আসলেও অদৃশ্য হাতের ইশারায় তাদের বদলির আদেশ আটক করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি সংবাদ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হলেও শিক্ষা বোর্ডের দুর্নীতগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কিছুই না হওয়ায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা দিন দিন সাহস বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্নীতি করতে মনে করেন দিনাজপুরের সচেতন মহল। বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড তার কার্যক্রম শুরু করে ২০০৬ সালে এবং পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। সেই সময় মাস্টার রোলে ১০৯ জন কর্মচারী নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের পথচলা শুরু করে। ২০১৪ সালে বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেনের সহযোগিতায় ১০৯ জন কর্মচারীকে নিয়মিত করা হয়।
মাত্র ৩ বছরের মাথায় কয়েকজন কর্মচারীকে ঘুষের মাধ্যমে তাদের পদোন্নতির জন্য তোড়জোড় শুরু হয়। এ জন্য গত মাসের ২০ ও ২১ জুন সিলেকশন বোর্ডের ৫ জন সদস্যের মাধ্যমে ২০ জন কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ করে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযোগ আছে ওই নিয়োগে ৫ সদস্যের সিলেকশন বোর্ডের অধিকাংশ পদোন্নতির বিলে স্বাক্ষর ছাড়াই বিল পাস করেছেন নিজ ক্ষমতা বলে বোর্ড চেয়ারম্যান। এ ব্যাপারে ৫ জনের স্বাক্ষর করা সম্মতিপত্র গতকাল বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এবং পরে অন্য কোন দিন দেখাবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে শুন্য আরো ২০টি পদে টাকার বিনিময়ে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়াও বোর্ডের কম্পিউটার কেন্দ্র দিনাজপুরে স্থাপনের কোনো অবকাঠামো নির্মাণ না করা হলেও ৩২টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য প্রত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
কারণ বোর্ড চেয়ারম্যানের চাকরির সময়সীমা শেষের দিকে এবং ৩২ পদের জন্য তার ছেলে, মেয়ে, ছেলের স্ত্রী এবং বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ছেলে ও শ্যালিকার নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। অন্য পদগুলোতেও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাই ইতোমধ্যে বোর্ড চেয়ারম্যান চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিরলের আহসান হাবীব সাজু নামক এক প্রার্থীর নিকট কম্পিউটার সেকশনে চাকরি দেবেন বলে ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২১ জুন তারিখে সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রাপ্তরা বর্তমানে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সহকারী সচিব, সহকারী স্কুল পরিদর্শক, সহকারী কলেজ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ এই পদগুলো বিসিএস ক্যাডার প্রাপ্তদের। যে সকল কর্মচারীরা পদোন্নতি পেল তাদের অনেকের মার্স্টাস ডিগ্রিও নেই।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান জানায়, শিক্ষা বোর্ডে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয় নি। আর নিয়োগের ব্যাপারে বলেন আমার পরিবারের সদস্যদের যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে অবশ্যই এখানে নিয়োগ পাবে। আর নিয়োগের ব্যাপারে স্বজনপ্রীতি হলে একটু হতেই পারে সাফ জানিয়েদেন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ২০ জন কর্মচারীকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৫ সদস্য বিশিষ্ট সেলেকশন কমিটি গঠন করা হয়েছিল এর মধ্যে পদাধিকার বলে বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসার আহমেদ হোসেন সভাপতি, মাউশি উপ- পরিচালক ড. মোস্তফা কামাল হায়দার, তৎকালীন অতিরিক্ত দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) আবু আওয়াল, দিনাজপুর জেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র মুর্খাজী এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসার হারুন অর রশিদ।
তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) আবু আওয়াল বলেন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ার কারণে সিলেকশন বোর্ডের সভায় যোগদান করিনি। কারণ জৈষ্ঠ্যাতার ভিত্তিতে কোনো কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এবং যে সকল কর্মচারীকে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান পদোন্নতি দিয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
আইনে রয়েছে যে সকল কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তা নিষ্পত্তি না পর্যন্ত সেই সকল কর্মচারীদেরকে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। তারপরও বোর্ড চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন পদোন্নতির প্রাপ্ত কর্মচারীদের কাগজপত্র নিয়ে ডিসি অফিসে এসেছিলেন আইনের ব্যাখ্য পাওয়ার বোর্ড চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন মাথা নীচু করে ডিসি অফিস থেকে বের হয়ে চলে যান ।
তারপরও বোর্ড চেয়ারম্যান আইন অমান্য করে শিক্ষা বোর্ডের ২০ জন কর্মচারীকে পদোন্নতি দিলেন এবং পরবর্তীতে সেই সকল পদে লোক নিয়োগের জন্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেছেন যা সম্পূর্নভাবে আইন বহির্ভূত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*