Wednesday , August 15 2018
Home / বাংলাদেশ / নিবরাসের সাত সঙ্গী কোথায়, প্রশ্ন জনমনে

নিবরাসের সাত সঙ্গী কোথায়, প্রশ্ন জনমনে

Screenshot_5

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি গুলশান হামলায় নিহত পাঁচ জঙ্গির একজন নিবরাস ইসলাম ছদ্মনামে (সাঈদ) ঝিনাইদহ শহরের একটি জঙ্গি আস্তানায় চার মাস অবস্থান করেছিলেন। তার সাথে থাকতো আরও সাত জঙ্গি। শহরের হামদহ সোনালী পাড়ায় সাবেক এক সেনা সদস্য কাওছার আলীর বাড়িতে চার কক্ষের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেটাকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতো তারা। রমজানের শুরুতে ছয়জন এবং বাকি দুজন ২৮ জুন (গুলশান হামলার দুদিন আগে) বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। এরপর তারা আর কেউ ফিরে আসেনি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। নিবরাস নিহত হলে বাকীরা কোথায়? বাড়ির মালিকের স্ত্রী বিলকিস নাহার জানান, পাশের জামে মসজিদের ইমাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোকনুজ্জামান চার মাস আগে ভাড়াটে নিয়ে আসেন। রোকনুজ্জামান তখন বলেছিলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র থাকবেন। কথাবার্তা চূড়ান্ত হলে প্রথমে দুইজন বাসায় ওঠেন। এদের মধ্যে একজন সাঈদ (নিবরাস) অন্যজনের নাম মোস্তাফিজ। কিছুদিন পর আরও ছয়জন আসেন। রমজানের শুরুতে ছয়জন এবং বাকি দুজন ২৮ জুন বাড়ি যাওয়ার কথা বলে চলে যান। ঢাকায় হামলার পর আশপাশের লোকমুখে শুনেছেন, তাদের ভাড়াটে সাঈদ একজন জঙ্গি, টেলিভিশনে তার ছবি দেখিয়েছে। এরপর ঈদের আগের রাতে র্যাবের একটি দল বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং স্বামী কাওছার আলী, দুই ছেলে বিনছার আলী (২২) ও বিনজির আলী (১৯) এবং বাড়ির পাশের মসজিদের ইমাম মো. রোকনুজ্জামান ও সহকারী ইমাম সাব্বির হোসেনকে আটক করে। এ সময় তার ছেলেদের একটি ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। বাড়ির মালিকের স্ত্রীর দাবি, ভাড়াটেদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ কম ছিল। বাড়ির মালিক কাওছার আলীর ভাই তাহের আলী জানান, তারা পাঁচ ভাই। তিনিসহ তিন ভাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। কাওছারসহ দুই ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। তারা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। জঙ্গিদের মেসের বুয়া জানান, তিনি প্রতিদিন তিন বেলা এসে চারজনের রান্না করে দিতেন। কিন্তু থাকতেন আটজন। বাকি চারজন বলতেন, তারা বাইরে খান। সেখানে একটি মোটরসাইকেল থাকত। সাঈদ (নিবরাস) বেশির ভাগ সময় মোটরসাইকেলে বাইরে যেতেন। ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলামের সাথে ওই মেসে থাকা বাকী ৭ যুবককে নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে। এই সাত যুবক কারা, কি তাদের পরিচয় এবং এখন তারা কোথায় আছেন এমন হাজারো প্রশ্ন মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে। ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকার সোনালীপাড়ার ছাত্রাবাসে থাকাকালে নিবরাস যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করতো তাতে তিনজনকে চলাচল করতে দেখেছেন স্থানীয় মানুষ। আর পুরোহিত আনন্দ গোপাল ও সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস হত্যাকাণ্ডে মোটরসাইকেলে করে তিন খুনি অংশ নেয়। ফলে নিবরাসের ঝিনাইদহে অবস্থানকালে ঘটে যাওয়া আলোচিত চার হত্যা নিয়ে নতুন করে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। সন্দেহ দেখা দিয়েছে আইএস কর্তৃক দায় স্বীকার করা চাঞ্চল্যকর এই চার হত্যার সাথে নিবরাস ইসলাম কি জড়িত? নিবরাস নিহত হলে বাকী সাত জন কোথায়? অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, বাকীদের খুঁজে পাওয়া গেলে এ রহস্যের জট খোলা সহজ হবে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি হরেন্দ্র নাথ সরকার জানান, চার জনকে আটক এবং ওই জঙ্গি আস্তানা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, হামদহ এলাকায় কিছু মেস আছে। মাঝেমধ্যে সেখানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কোনো জঙ্গি আস্তানা ছিল বা সেখান থেকে কাউকে আটক করা হয়েছে, এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*