Sunday , August 19 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / পীরগঞ্জে করতোয়া নদীর গর্ভে একটি গ্রাম, ভাঙ্গনের মুখে আরও ৬ গ্রাম

পীরগঞ্জে করতোয়া নদীর গর্ভে একটি গ্রাম, ভাঙ্গনের মুখে আরও ৬ গ্রাম

পীরগঞ্জে করতোয়া নদীর গর্ভে একটি গ্রাম, ভাঙ্গনের মুখে আরও ৬ গ্রাম

আব্দুল্লাহীল বাকী বাবলু, পীরগঞ্জ, রংপুর ॥
পীরগঞ্জে বন্যার পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথেই করতোয়া নদীর ভাঙ্গন বাড়ছে। ইতিমধ্যেই বিছনা, সুজারকুঠি, দুর্গামতি গ্রামের সিংহভাগ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে অর্ধ শতাধিক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। নদীটি গতিপথ পরিবর্তন করে পীরগঞ্জ সীমানার ভিতরে প্রায় এক কি.মি সরে আসায় বর্তমানে আরও কয়েকটি গ্রাম বিলীন হওয়ার পথে। যে হারে নদী ভাঙ্গছে, এতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৬ টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যাবার আশংকা করা হচ্ছে। মাত্র এক কি.মি এলাকা খনন করে নদীটি আগের পথে ফেরানো হলে গ্রামগুলো রক্ষা পাবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রংপুর ও দিনাজপুর জেলাকে দ্বিখন্ডিত করে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে এবারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় উপজেলার চৈত্রকোল, টুকুরিয়া, বড়আলমপুর, চতরা ও কাবিলপুর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দী ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে নদীটির পাড় ভাঙ্গতে শুরু করে। বর্তমানে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মহারাজপুর থেকে গতিপথ পরিবর্তন করে ১ কি. মি উত্তরে সরে পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের বিছনা ও দুর্গামতি গ্রামে চলে আসে। ভাঙ্গনে নদীটির তলদেশে বিছনা গ্রামের একটি পাড়ার অর্ধ শতাধিক পরিবারের বসতভিটে বিলীন হওয়ায় ওইসব পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। আশ্রয়হীনদের মধ্যে আব্দুল মান্নান, রশিদা বেগম, সিদ্দিক আলম, শাহজাহান আলী, জালাল উদ্দিন, জহুরুল ইসলাম জানান, বাপ-দাদার বাড়িঘর ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আবাদী জমি, ফসলও শেষ হয়ে যাওয়ায় পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ রাস্তার মোনাইল মোড়ে আমরা রাস্তার পাশে বসবাস করছি। বিছনা গ্রামের আতংকিত রমিছা, নিরব, মানিক, বকুল, রেজ্জাকসহ অন্যরা জানান, সারাজীবন খেটে ইটের বাড়ি করেছি। নদীটি আর ৫০ গজ ভাঙ্গলেই আমাদের বাড়িগুলো এবং পাকা রাস্তা পুরোটাই নদীগর্ভে চলে যাবে। এর আগে আমাদের জমিজমাও চলে গেছে। সুজারকুঠি গ্রামের শিক্ষক একরামুল হক ও গন্ধর্বপুরের সাদেকুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙ্গন রোধ করতে না পারলে সুজারকুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুজারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়সহ দুধিয়াবড়ী, পারবোয়ালমারী গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই সুজারকুঠির রাস্তা ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টুকুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যারম্যান আতাউর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় করতোয়া নদীটি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মহারাজপুর থেকে ভেঙ্গে উত্তরে এক কি.মি সরে এসে আমার ইউনিয়নের বিছনা ও দুর্গামতি গ্রাম হুমকির মুখে। এখনো নদী ভাঙছে। এই ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিছনা, দুর্গামতি, পারবোয়ালমারী, দুধিয়াবাড়ী, জয়ন্তীপুর ও সুজারকুঠি গ্রামের অসংখ্য বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমি সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। নদীটি মাত্র এক কি.মি খনন করে আগের পথে নিতে পারলে গ্রামগুলো ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উল্লে¬খিত গ্রামগুলো ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ডিও লেটার দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়নি। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক এসও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা নদীটি পরিদর্শন করেছি। তবে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*