Sunday , August 19 2018
Home / আন্তর্জাতিক / ফিলিস্তিনী ভূমি গ্রাসের ইসরাইলি কৌশল

ফিলিস্তিনী ভূমি গ্রাসের ইসরাইলি কৌশল

hgrfsisrael_45067

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের কয়েকটি পত্রিকায় একদিন একটি বিজ্ঞাপন বেরুলো : ‘৪০টি গাধা বিক্রি হবে।’

এটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, এর মধ্যে যেটুকু অস্বাভাবিকতা সেটি হলো, বিজ্ঞাপনটি দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। আর স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওগুলো আমাদেরই গাধা, ইসরাইলি সৈন্যরা ধরে নিয়ে গেছে।

ইসরাইলি বাহিনীর বয়ান হলো, এসব গাধা যত্রতত্র চরে বেড়ায় বলে প্রায়ই রাস্তায় দু্র্ঘটনা ঘটতো। এখন দুর্ঘটনা ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

ইসরাইলি বয়ানটা আপাতদৃষ্টিতে নিতান্ত নিরীহ হলেও স্থানীয় ফিলিস্তিনীরা জানে, এটা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়, বরং সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ।

ইসরাইল যেখান থেকে ফিলিস্তিনী কৃষকদের গাধা বাজেয়াপ্ত করেছে, সেই এলাকাটির নাম জর্দান উপত্যকা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের জর্দান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাটি প্রতিরক্ষা কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা যে-কোনো মূল্যে জায়গাটি কব্জা করতে চায়।

এ লক্ষ্যে নানা কূটকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। ইতিমধ্যে তারা সেখানে ফায়ারিং জোন প্রতিষ্ঠা করেছে। ফায়রিং জোন করতে হয় জনবসতিবিহীন এলাকায়। অথচ ইসরাইলি বাহিনী যেখানে ফায়ারিং জোন প্রতিষ্ঠা করেছে সেখানে এখনো আট শ’ ফিলিস্তিনী বসবাস করে।

জর্দান উপত্যকা তার বিস্তীর্ণ আবাদী জমি এবং মাটির নিচে পানির ভাণ্ডার নিয়েও ইসরায়েলের আগ্রাসী জিহবায় জল এনে দিচ্ছে। ফলে ইসরায়েল প্রায়ই উপত্যকাবাসী গরীব ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, গৃহপালিত পশু বাজেয়াপ্ত করছে। সবকিছুর উদ্দেশ্য একটাই : ফিলিস্তিনীরা এলাকা ছেড়ে যাক। তাহলেই জায়গাটি ইসরায়েলের হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*