Monday , August 20 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / বছিরনের ৭০ বছর বয়সেও মেলেনি বয়স্ক ভাতা

বছিরনের ৭০ বছর বয়সেও মেলেনি বয়স্ক ভাতা

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

বাবা মোক এখান বয়স্ক ভাতা আর নাল কাড নিয়া দেও বাবা। মুই চইলবার পাওনা। ভিক্ষা করি পেটের ভাত যোগাং। মোক কোনো ভাতা দেয় নাই নেম্বর-চেয়ারম্যান। এই বয়সত আর চইলবার পাংনা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার বছিরন বেওয়া। প্যান্ট- শার্ট পড়া ভদ্রলোক দেখলেই এমন আকুতি করে সবার কাছে।

৯ নং ওয়ার্ডের বড়বাড়ী এলাকার রাস্তার ধারেই খাসের জমিতে তার বাড়ি। ৮মাস আগে মারা গেছেন স্বামী খেজমত আলী। বর্তমানে ৭০ ছাড়িয়ে গেছে বছিরনের বয়স। বয়সের ভারে চলাফেরাও কঠিন। বাত ব্যাথায় জর্জরিত সারা শরীর। তবুও পেটের দায়ে প্রতিদিন দু-মুঠো খাবারের খোঁজে লাঠিতে ভর দিয়ে ভিক্ষা করেন গ্রামে গ্রামে। ভিক্ষার আয়ে কোনমতে চলে তার তিন সদস্যের সংসার।
বয়স্ক কিংবা বিধাবা ভাতা জোটেনি তার কপালে। বয়স্ক বা বিধাব ভাতার জন্য কয়েকবার মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছেন তিনি। তিনি জানান, টাকা ছাড়া কোন কার্ড দেয় না মেম্বার চেয়ারম্যান। এ নিয়ে অনেক ক্ষোভ রয়েছে তার ।

এলাকাবাসী জানান, অনেক সচ্ছল ব্যক্তি বয়স্ক – বিধবা ভাতা, ভিজিএফ – ভিজিডি সুবিধা ও পেলেও বছিরন এসব থেকে বঞ্চিত।
বছিরন বেওয়ার দুই ছেলে। বড় ছেলে নবাব রিকসা চালান। কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ এলাকায় বিয়ে করে সেখানেই থাকে সে। মাঝে মাঝে এসে মায়ের খোঁজ নিয়ে যায়। ছোট ছেলে আলম ঢাকায় কাজ করে।


বছিরনের পক্ষে ভিক্ষার আয়ে নাতি নাতনিসহ ৩ জনের সংসার চালানো কষ্টসাধ্য। থাকার ঘরটি জড়াজির্ণ বৃষ্টিতে পানি পড়ে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য বাহেজ আলি জানান, বছিরনের স্বামী বেচে থাকাকালীন ১০কেজি করে চালের স্লিপ দেয়া হয়েছিল।
ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম আব্দুল্যাহ আল ওয়ালিদ মাসুম জানান, বছিরন বেওয়া সম্পর্কে জানা ছিলো না। এখন জানলাম আগামীতে তার ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*