Wednesday , August 15 2018
Home / বাংলাদেশ / রাজশাহী বিভাগ / বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস রংপুরে পালিত

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস রংপুরে পালিত

রিপোর্টার:

 রংপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেছেন, রংপুরের হারাগাছে তামাক কোম্পানী গুলোতে আইন লঙ্ঘন করে শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কারখানায় কাজ করানো হচ্ছে। সেখানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনও মানা হচ্ছে না। রংপুরে তামাক চাষীদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। তামাক থেকে প্রতিবছর সরকার যে পরিমান কর পায় তারচেয়ে তামাক জনিত বিভিন্ন রোগে সরকারের ভর্তূকী লাগে বেশি। তামাক নিয়ন্ত্রন করতে আইনের প্রয়োগ যেমন দরকার তেমনি প্রয়োজন তামাক পণ্যের উপর কর বৃদ্ধি করা। তামাক নিয়স্ত্রনের মধ্য দিয়েই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

‘তামাক: উন্নয়নের অন্তরায়’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে গতকাল বুধবার রংপুর নগরীতে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা টাস্কফোর্স কমিটি, তামাক নিয়ন্ত্রন কোয়ালিশন, তামাক বিরোধী মিডিয়া জোট-আত্মা ও তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভলপমেন্ট-এসিডি’র উদ্যোগে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ৯ টায় র‌্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট অতিক্রম করে জেলা সদর হাসপাতালে এসে শেষ হয়।

সেখানে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোডিকেল অফিসার ডা: রুহুল আমিন। বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা: আবু মো:জাকিরুল ইসলাম, তামাক নিয়ন্ত্রন কোয়ালিশন এর ফোকাল পারসন সুশান্ত ভৌমিক, এসিডি’র প্রকল্প সমন্বয়ক এহসানুল আমিন ইমন, জেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর মাহবুব রহমান,ব্রাক প্রতিনিধি নাজমুল হক, আত্মা প্রাতনিধি ময়নুল হক, আফজাল হোসেন, স্যাডো প্রতিনিধি সারোয়ার জামিল,মাসুদ রানা, গোলাম ফারুখ, আবু জাফর প্রমূখ।

সভায় বক্তারা আরো বলেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর সত্ত্বেও বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করে। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ মানুষ অকালমৃত্যু বরণ করে। এছাড়া ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৪ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ। দেশের এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর তামাক জনিত রোগের চিকিৎসা খাতে প্রতিবছর সরকারকে ভুর্তকি দিতে হয় । টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তামাক একটি বড় বাধা। তামাকের ব্যবহার দারিদ্রতা বাড়ায় কারন বাংলাদেশে একটি পরিবারের মাসিক খরচের ৫ ভাগ যদি তামাকজাতীয় দ্রব্যের পেছনে ব্যয় হয় তাহলে দেখা যায় যে জিডিপির ৩ শতাংশ নষ্ট হয় শধুমাত্র তামাকের কারনে। তামাক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নারী ও শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে য তাদের দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এছাড়া তামাকের চুল্লীতে কাঠ পোড়ানোর ফলে অতিরিক্ত বৃক্ষ নিধনে জলবায়ূ পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রভাব মোকাবেলায় বাধা সৃষ্টি করে। সুতরাং তামাক পণ্যের উৎপাদন , বিপণন, ও ব্যবহারজনিত ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে যে এগুলো সবই টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হিসাবে কাজ করছে।

বক্তারা আলোচনা সভা থেকে অতি দ্রুত তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন ও বিড়ি সহ সকল ধরনের তামাক পণ্যের উপর শক্তিশালী শুল্কনীতি গ্রহণ এবং আসন্ন বাজেটে সকল তামাকজাত পণ্যের খুচরা মূল্যের উপর সুনির্দ্দিষ্ট পরিমান স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারনের দাবী জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*