Thursday , October 18 2018
Home / জাতীয় / মাদকমুক্ত জায়গীরহাট ঘোষনা বণিক সমবায় সমিতির-সাবেক অধ্যক্ষ তোজাম্মল হোসেন

মাদকমুক্ত জায়গীরহাট ঘোষনা বণিক সমবায় সমিতির-সাবেক অধ্যক্ষ তোজাম্মল হোসেন

 

রুবেল ইসলাম,মিঠাপুকুর সংবাদদাতা

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তোমাদের করছি আহব্বান,“মাদকমুক্ত সমাজ গড়বো” তোল রে স্লোগান।এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে আগামীর সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়তে মাদকের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলনে ব্যস্ত যখন সরকার,ঠিক সেই সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মাদকমুক্ত হাট ঘোষনা সাবেক অধ্যক্ষ তোজাম্মল হোসেনের।

উত্তরঅঞ্চলের প্রবেশদ¦ার রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার অন্যতম ব্যস্তময় কাঁচামাল নগরী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঁচামাল রপ্তানিকারক জায়গীর হাটকে বাংলাদেশের একমাত্র মাদকমুক্ত হাট বলে ঘোষনা “জায়গীর হাট বণিক সমবায় সমিতি লিঃ”।বণিক সমিতির সভাপতি ও আহবায়ক তোজাম্মেল হোসেন এর দেওয়া  সাক্ষাৎকারে জানান-আমি মনে করি,বর্তমান সরকারের যে মহৎ উদ্দেগ্য মাদক নির্মূল যে অভিযান চালাচ্ছে তার সঙ্গে জায়গীর হাট দেশের অংশ হিসাবে মাদক নির্মূল একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসাবে দাড়িয়েছে যে কারণে সরকারের সাথে একাত্ম ঘোষনা করে ও সরকারকে সহযোগিতা করে জায়গীর হাটকে মাদকমুক্ত ঘোষনা করা।আমরা বিশ^াস করি আমাদের যে সংগঠন দাঁড় করেছি তা মাদকমুক্ত জায়গীর হাট তৈরীতে অগ্রণী ভ’মিকা পালন করবে।

আমাদের এই জায়গীর বাজারে ইনশাআল্লাহ মাদকাসক্ত ও মাদক বিক্রেতা নেই এবং বাংলাদেশে যদি কোন মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষনা করা হয় তাহলে সর্বপ্রথম জায়গীরকে মাদকমুক্ত বলে ঘোষণা করা হবে।এর জন্য আমরা বণিক সমবায় সমিতি কাজ করবে।

বনিক সমিতি একটি ব্যবসায়ীক সংগঠন,এখানে ভালো মানুষের সম্বনয় রয়েছে-ব্যবসার পাশাপাশি বনিক সমিতি শিক্ষার মান উন্নয়নে ভ’মিকা রাখছে।জায়গীর হাট স্কুল ও কলেজ,মাদ্রাসা ও শিশু নিকেতনের মানউন্নয়নে ভ’মিকা রাখছে।এলাকার মানুষকে সচেতন করে শিক্ষাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভ’মিকা পালন করবে।কারণ শিক্ষিত সমাজ কখন খারাপ কর্মে যুক্ত হতে পারে না,তাই শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক গড়ে তুলতে হবে।

কিছু দিন আগে জায়গীর হাটে হিরা চৌধুরী নামক একজন ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হওয়ায় বণিক সমিতির মাধ্যমে আধা বেলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও মানববন্ধন করা হয়।আশা করা যায় এরকম ঘটনা জায়গীর হাটে আর পূণরাবৃত্তি হবে এটা বিশ^াস করা যায় না।যদি ঘটে তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তারপরও ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ব্যবসায়ীকে সজাগ থাকতে হবে যাতে কোন সন্ত্রাসী এ ধরণের কাজ করার সুযোগ ও সাহস না পায়।

তিনজন ব্যক্তি একজন সুসন্তান গড়ে তুলতে পারেন পিতামাতা ও শিক্ষক।এই ৩ জন ব্যক্তি যদি পাশাপাশি সঠিক দায়িত্ব পালন করেন তার সন্তানকে মানুষ করার জন্য বিশেষ করে তাহলে তার সন্তান মাদকাসক্ত কেন? তার সন্তান সোনার মানুষে পরিণত হবে।প্রথমে বাবামাকে তার সন্তানের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে তার সন্তান কোথায় যাচ্ছে?কি করছে?তারপর শিক্ষককে দায়িত্ব গ্রহণ নিতে হবে যাতে কোন সন্তান যেন আন-মনা না হয়।যদি এই দায়িত্ব পালন করা হয় তাহলে কোন সন্তান মাদকাসক্ত তো দূরের কথা তাঁর ধারের কাছে যাবে না।

মাদক নির্মূলে মাদকের উৎস কোথায়? সেটা আগে দেখতে হবে।পাশাপশি বিক্রেতা তাকেই আগে আঘাত করতে হবে।ক্রেতার ওপর প্রভাব না ফেলে বিক্রেতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।পাশাপাশি সকলকে সৎ ও আন্তরিক হতে হবে।প্রশাসনসহ সাধারন মানুষ যারা সবাই যদি আন্তরিক হই তাহলে নিশ্চিত সমাজ থেকে মাদক নিমূল করা সম্ভব হবে।মাদক নির্মূল করা সম্ভব না হলে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধাকরে ধাবিত হবে।আগামী প্রজন্মের দিক বিবেচনা করে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাদক নির্মূলে ভ’মিকা পালন করতে হবে।

পুলিশ এমন একটি বাহিনী,তারা ইচ্ছে করলে সব পারে! পুলিশের পাশাপাশি জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে কারণ “পুলিশই জনতা ,জনতাই পুলিশ”।সুতরাং সকলে মিলে আন্তরিক হলে মাদকের মতো ভয়াভহ ব্যধি নিমূল করা সম্ভব।

সমবায় সমিতি গুলো সবসময় মানবকল্যাণে নিয়োজিত থাকে।যার কারণে মাদক নিমূলে আমাদের জায়গীরহাট বণিক সমিতি ভ’মিকা রাখছে।

জায়গীর হাট বাজার মাদকমুক্ত করতে রাত ১২টার পর আমাদের ৫ জন নিরাপত্তা কর্মী কাজ করছে।কোন ব্যক্তি মাদকসক্ত হয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে আবার যদি কেউ মাদকসক্ত হয়ে প্রবেশ করে তাহলে আমাদেও নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের গ্রেফতার করে আমাদের কাছে সোপর্দ করবে।আমরা তার এই অপরাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অতিদ্রুত মিঠাপুকুর উপজেলার এমপি জনাব আশিকুর রহমান আমাদের জায়গীর হাট স্কুল ও কলেজ মাঠে একটি প্রোগামে যোগ দিবেন সেখানে আমি “ মিঠাপুকুর থানার জায়গীর হাট বাজারকে মাদকমুক্ত” হিসাবে ঘোষনা করবো।

যদি নের্তৃত্ব সঠিক হয় তাহলে জায়গীর হাটকে মাদকমুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্॥কারণ আমার ব্যক্তিগত জীবন থেকে আমি মাদককে ঘৃণা করি এবং আমি মাদকমুক্ত জায়গীর হাট উপহার দিবো।

এজন্য সরকারের সাথে নিরলস প্রচেষ্টায় মাদক নির্মূল অভিযান সফল হবে এবং আজকে সন্তানেরা আগামী দিনের কর্ণধর হিসাবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করবে। গড়ে তুলবে নতুন সম্ভাবনার বাংলাদেশ।আসুন আমরা মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।আমাদের স্লোগান হোক “মাদকমুক্ত সমাজ চাই”।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*