Sunday , August 19 2018
Home / আন্তর্জাতিক / মা-ছেলেকে পিষে ভাগলো ড্রাইভার, পরে জানলো নিজের ছেলে ও স্ত্রী ছিল ওরা!

মা-ছেলেকে পিষে ভাগলো ড্রাইভার, পরে জানলো নিজের ছেলে ও স্ত্রী ছিল ওরা!

এই ভয়াবহ হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে চীনে। মহাসড়কে চলমান যানবাহন মানুষজনকে আঘাত করে পিষে মেরে চলে যায়। এমন ঘটনার গালভরা একটি ইংরেজি নাম আছে- হিট অ্যান্ড রান।

দুনিয়া জুড়ে পুলিশ আর রাস্তায় যন্ত্রদানব চালকেরা এই বিষয়টিতে সম্যক অবগত। কোনো চালক রাস্তায় তার গাড়ি দিয়ে কাউকে আঘাত করে মারাত্মক আহত বা নিহত করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলে তাকে পুলিশি পরিভাষায় বলা হয় ‘হিট অ্যান্ড রান’ কেস। পত্রিকায় শিরোনাম হয়- অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধার বা গাড়িচাপায় গুরুতর আহত…।

সংবাদে আরো লেখা হয়, ধারণা করা হচ্ছে দ্রুতগামী কোনো গাড়ি ওই হতভাগ্য ব্যক্তিকে চাপা দিয়ে পালিয়েছে। কিন্তু চীনে যে ঘটনাটি এবার ঘটেছে তা চুরমার করে দিয়েছে পলাতক চালকের অপরাধ করে পালানোর ‘স্বস্তি’ আর ‘তৃপ্তি’। অপরাধ করে পালানোর এই অপরাধ থেকে সে তার জীবনকালে আর পালাতে পারবে না। প্রতি মুহূর্তে তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে এই অপরাধবোধ। কারণ, গাড়ি চাপা দিয়ে সে নিজের সন্তান আর স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়েছিল যা পরদিন সে জানতে পারে।

ঘটনার নায়ক বা খলনায়ক ঝাংগ পুলিশকে জানান, এক আত্মীয়ের দেওয়া পার্টিতে সপরিবারে যোগ দিয়েছিলেন তারা। পার্টি শেষে তিনি নিজের ভ্যান নিয়ে আর স্ত্রী ও সন্তান ইলেক্ট্রিক বাইকে বাড়ির পথে রওনা দেন। পার্টিতে প্রচুর মদ গিলেছিলেন ঝাংগ। এ কারণে নেশাও চড়েছিল খুব।

চীনের শেনডং অঞ্চলের ট্রাইবা শহরে গত ২২ মার্চ ঘটে এ হৃদয় বিদারক ঘটনা। গাড়ির প্রচণ্ড আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় স্কুটার। আঘাত করেই ঝাংগ তার গাড়ি নিয়ে পালান। মা-ছেলেকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলেটি মারা যায় আর মা রয়েছেন আইসিইউতে।

অপরদিকে, দুর্ঘটনার সূত্রে পুলিশ ঝাংগকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন হতাহতদের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের দেখানোও হয়। ঝাংগের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। হায় হায়! নেশার ঘোরে নিজ স্ত্রী-সন্তানকে রাস্তায় উড়িয়ে দিয়ে এসেছেন তিনি গাড়ির আঘাতে। ঘটনার পর সাহায্যের জন্য তিনি থামেননি পর্যন্ত। ওদিকে তার স্ত্রী-পুত্র মারাত্মক জখম নিয়ে রাস্তায় পড়ে তড়পাচ্ছিল।

সত্য কতো তিক্ত আর মর্মান্তিক হতে পারে তা ঝাংয়ের মতো কম লোকই অনুভব করতে পেরেছে- এটা নিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*