Thursday , October 18 2018
Home / বাংলাদেশ / ঢাকা বিভাগ / ময়মনসিংহ নান্দাইলে বেঞ্চ বিহীন ঝুঁকিপূর্ন ভবনে ক্লাস করছে সরকারী স্কুলের শিশুরা।

ময়মনসিংহ নান্দাইলে বেঞ্চ বিহীন ঝুঁকিপূর্ন ভবনে ক্লাস করছে সরকারী স্কুলের শিশুরা।

received_1569277083382188

ইয়াসির আরাফাত(ময়মনসিংহ) :-বিদ্যালয়ের মেঝে আর

বারান্দায় বসে শিক্ষার্থীদের এই

মনোযোগি পড়াশুনা আপনাকে নিয়ে

যেতে পারে আপনার শৈশবে। তবে

এই শিশুরা আপনাকে শৈশবে ফেরাতে

নয় বরং বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ ভবনে

শ্রেণীক্ষ, বেঞ্চ আর

সারঞ্জামের অভাবে বিদ্যালয়ের

মেঝে আর বারান্দায় বসে জীবনের

ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যাচর্চা বাধ্য হয়েই শিশুরা

অব্যাহত রেখেছে ।

বলছিলাম ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল

উপজেলার অবহেলিত মোড়াগালা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা। এমন

এক জায়গায় বিদ্যলয়টির অবস্থান যার

একদিকে কিশোরগঞ্জ জেলার

সীমানা অপরদিকে ময়মনসিংহ। এলাকা

জুড়ে নেই অন্য কোন শিা প্রতিষ্ঠান।

আর এ অভাব দুর করতেই এলাকার

বিদ্যানুরাগী মানুষের উদ্যোগে

বেসরকারিভাবে ১৯৯০ সালে গড়ে

ওঠে শিশুদের শিার জন্য এ বিদ্যাপীঠ।

গ্রামের লোকের নিজের জমি, মুষ্টির

চাল, বাড়ি বাড়ি চাঁদা আদায় এবং

অনেকেরে কায়িক শ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠা

করেছিলেন স্কুলটি। শিশুদের

খেলাধুলার জন্য ব্যবস্থা করা হয় বিশাল

মাঠের। নির্মান করা হয় মোড়াগালা

বেসরকারী রেজিষ্টার্ড প্রাইমারী

স্কুল ভবন। পরে ২০১৩ সনে স্কুলটি

সরকারিকরণ হলেও এখন এই স্কুলের

ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজন

অনুযায়ী নেই শ্রেণীকক্ষ। ভবন

থাকলেও ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে

পড়েছে, নেই বসার বেঞ্চ,

রয়েছে শিক স্বল্পতাও। এতো কিছু না

থাকার পরেও আছে শিক্ষা লাভে

আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রী। তাই কোনওদিন

যদি মোট পড়ুয়ার ৪৪ শতাংশ স্কুলে হাজির

হয় তাহলে অনেককেই মেঝে আর

স্কুলের বারান্দায় এমনকি দাঁড়িয়ে কাস

করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে স্কুলের

পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখতে পড়ুয়াদের

প্রত্যেকে যাতে প্রতিদিন স্কুলে না

আসে তেমন নির্দেশ দিতে বাধ্য

হয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এক কাসের ছুটি না হওয়া পর্যন্ত

অপেক্ষায় থাকেন অন্যকাসের শিক্ষক

শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় ঝড় বৃষ্টি

আর প্রখর রোদে পুড়ে কাস করেন

শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। ফলে পালা করে

স্কুলে আসার এই ব্যবস্থাই চলে

আসছে মোড়াগালা সরকারী প্রাথমিক

বিদ্যালয়ে। সরেজমিনে ও স্কুল

সূত্রে জানা গেছে, এ পরিস্থিতির শুরু

২০০৯ সাল থেকে। ভবনের ইট রড,

বের হয়ে পড়ে আছে অবহেলায়।

বয়সের কারন স্কুল ভাবনে দেখা

দেয় ফাটল, ভেঙে যায় চেয়ার,

টেবিল, বেঞ্চসহ আসবাবপত্র। খসে

পড়ে ছাদ ও বিল্ডিং এর পলেস্তরা।

কাসে বসলে শিক্ষার্থীদের মাথার

উপর পলেস্তরা ভেঙ্গে পড়ছে।

অনেক সময় অনেকা শিক্ষার্থীরা

আহতের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকবার

ভুমিকম্পনে স্কুল বিল্ডিংয়ের নানান

জায়গায় ফাটল দেখা দেয়েছে। যে

কোন সময় আবার ভুমিকম্পন হলে

বিল্ডিং ধসে রানা প্লাজারের মতো

দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছে এলকাবাসি ও

অভিবাবকরা। এদিকে রাতে বিল্ডিং এর

ভাঙ্গাচুরা জালানা দিয়ে চুরি যায় আসবাবপত্র।

স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝা যায়

শিক্ষকের কথায়। আবুল খায়ের

মোহাম্মদ জাকারিয়া নামে এক শিক

বলেন, স্কুলের খাতাপত্র রাখার মতো

জায়গা নেই, নেই শিক্ষার্থীর

অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্লাসরুম,

নেই বেঞ্চ ও চেয়ার। আমরাও ছাত্র-

ছাত্রীদের সাথে বসে পড়াই। আছে

বাথরুমের সমস্যাও। শিক্ষার্থীরা তবু

এবাড়ি ওবাড়ি যেতে পারে।

কিন্তু আমরা যাই ক্যামনে? এ অবস্থায়ও

স্থানীয় এলাকাবাসি ও অভিবাবকদের

চাপে কোমলমতি শিশুদের ভবন

থেকে বারান্দায় ও বাইরে নিয়ে

অনেক সময় শিক্ষাক্রম চালু রাখা হয়। এ

বিদ্যালয়ে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীর সংখ্যা

বাড়ছে। ভর্তি আছে আশে পাশের

কয়েক গ্রামের অন্তত ৩ শতাধিক

শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির

সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ও

কয়েকজন অভিবাবক বলেন, আমরা আর

রানা প্লাজার মতো ঘটনা দেখতে চাই

না। চাই বাচ্চাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা।

শিশুদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে নতুন

ভবন নির্মানের দাবি তাদের কন্ঠে।

প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার ও

অন্যান্য শিক্ষকরা জানান. সবচেয়ে বড়

সমস্যা ক্লাস রুমের। যেখানে প্রায়

তিনশত শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র তিনটি

ক্লাসরুম আর উচু ও নিচু বেঞ্চ মিলে

মাত্র ৩০জোড়া রয়েছে। এগুলোর

মধ্যে আবার অনেকগুলো বেঞ্চও

নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। আর কাস

রুম আর বেঞ্চের অভাবে অনেক

সময় বিদ্যালয়ের মেঝে ও বারান্দায়

বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এভাবে

বসিয়ে ক্লাস করায় আমরা পড়ায়

মনোযোগ দিতে পারিনা। এব্যাপারে

উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার আনার

কলি নাজনিন বলেন, স্কুলের এধরনের

সমস্যার কথা আমি উধর্বতন কতৃপক্ষের

কাছে জানিয়েছি। এমনকি জেলা প্রাথমিক

শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে বিল্ডিংয়ের

জন্য আমি লিখিতভাবে উধর্বতন মহলের

কাছে আবেদন করেছি। আমার মনে

হয় খুব শিগ্রই কতৃপক্ষ আমাদের একটি

সমাধান দিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*