Friday , August 17 2018
Home / খেলাধুলা / যে কারণে মাশরাফি বারবার ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছেন!

যে কারণে মাশরাফি বারবার ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছেন!

খেলোয়াড়রা বর্তমানে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, এখন থেকে ১০ বছর আগে তা কল্পনাই করা যেত না। এমনকি ক্রিকেটারদের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য যে জিমের প্রয়োজন সেটা অনুভবই হয়নি কর্তাব্যক্তিদের।

আর এসব কারণে বাড়তি প্রেসার নিতে গিয়ে অনেক সম্ভাবনাময়ী ক্রিকেটারকে ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে যেতে হয়েছে।

তেমনেই অবস্থা হয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই একের পর এক ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন নড়াইল এক্সেপ্রেস। খেললে ইনজুরিতে আক্রান্ত হবেন এটাই স্বাভাবিক।

তবে মাশরাফি তুলনামূলক বেশি ইনজুরিতে পড়েছেন। ইনজুরির কারণে তার দুই পায়ে একাধিকবার অপারেশন করাতে হয়েছে। এ কারণে তার ক্যারিয়ারও শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে একাধিকবার।

ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে সম্প্রতি বিডি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের সময় এত ফ্যাসিলিটিও ছিল না। টেস্ট খেলা যখন শুরু করি, জিমনেসিয়াম বলে কিছু আছে, জানতাম না। বাংলাদেশ দলের জন্য প্রথম জিমনেসিয়াম হয় ২০০৬ সালে। অস্ট্রেলিয়ান ট্রেনার স্টুয়ার্ট কার্পিনেন এসে কয়েকটি বাইসাইকেল আর টুকটাক কিছু নিয়ে জিম চালু করে। তত দিনে অনেক ইনজুরি আমার হয়ে গেছে। এখনকার ছেলেরা এসে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক জিমগুলোর একটি পাচ্ছে।’

‘একটা ব্যাপার ছিল, জেনেটিক্যালি আমার লিগামেন্টগুলো খুব লুজ। আমার বাবা একসময় এলাকায় নামকরা ফুটবলার ছিলেন, অ্যাথলেট ছিলেন জাতীয় পর্যায়ে। তো আব্বার লিগামেন্ট ছেঁড়া দেখে অস্ট্রেলিয়ার ডাক্তাররা আগ্রহী হয়ে বেশকিছু পরীক্ষা করলেন। করে দেখলেন যে জেনেটিক্যালি আমাদের লিগামেন্ট লুজ। আব্বার যত লুজ, আমার তার চেয়ে দ্বিগুণ লুজ।’

ক্যারিয়ারে একাধিকবার ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার পরও জীবন বাজি রেখে ক্রিকেট খেলা যাওয়া প্রসঙ্গে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘খেলে যাওয়ার জন্য খেললে অনেক আগেই ছেড়ে দিতাম। আমি ওই জায়গা থেকে ক্রিকেট খেলি না। খেলতে চাই প্রপার ক্রিকেটার হিসেবে। অনেকে বলে ইনজুরি বা এত কিছু, ওই সহানুভূতি নিয়ে ক্রিকেট খেলার চেয়ে না খেলাই ভালো। প্রতিনিয়ত চাই নিজেকে ভাঙতে, নতুন কিছু করতে, কিছু শিখতে, আরও উন্নতি করতে। ’

মাশরাফি আরও বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন যে কেন এত নিজের সঙ্গে লড়াই। আমি বলি, এটাও একটা মজা। কষ্ট করে খেলছি, এই চ্যালেঞ্জটা জেতাও একটা মজা। এটার মজা আমি পেয়ে গেছি। আমি নিশ্চিত, এই মজাটা কোনো তরুণ ক্রিকেটার পেয়ে গেলে, তার ক্যারিয়ারে আর পেছনে তাকাতে হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*