Monday , August 20 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রংপুরে এক ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে নারী কর্মীর সম্ভ্রম লুণ্ঠনের অভিযোগ,বিচারের দাবিতে অনশন

রংপুরে এক ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে নারী কর্মীর সম্ভ্রম লুণ্ঠনের অভিযোগ,বিচারের দাবিতে অনশন

জি.এম জয়,বিশেষ প্রতিনিধি,রংপুর:

কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে পদ দেয়ার প্রলোভন দিয়ে সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজারের বিরুদ্ধে এক নারী কর্মীর সম্ভ্রমহানির অভিযোগ উঠেছে। যার জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার রাতভর অভিযুক্ত সিজারের মেসে অনশন করেন হোমায়রা ইসলাম চাঁদনী। পরে পরিস্থিতি জেনে পুলিশ চাঁদনীকে থানায় নিয়ে যায়।

জানা যায়, ঘটনাটি প্রকাশ করায় গত দুদিন থেকে চাঁদনীর মুঠোফোনে হুমকি ধামকি আর নানাভাবে সমস্যাটি সমাধানের বিষয়ে দেখা করার কথা বলে লাপাত্তা হয় সিজার। শুধু মুঠোফোনেই বলে কিন্তু দেখা করেনা সে। ফলে বাধ্য হয়ে তার সাথে দেখা না হওয়া পর্যন্ত মেসের সামনে অবস্থান করতে থাকেন চাঁদনী।

চাঁদনী জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উৎজীবিত হয়ে গত চার বছর ধরে ছাত্রলীগ কারমাইকেল শাখার নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন তিনি। তার সুবাদে কারমাইকেল শাখা ছাত্রলীগে নারী কর্মীদের পদচারণা শুরু হয়। কিন্তু নারী লিপ্সু কতিপয় নেতার কারণে কোণঠাসা হয়ে পরে নারী কর্মীদের অবাধ বিচরণ। অর্থ কিংবা সম্ভ্রম গিভ এন্ড টেক পলেসির জাঁতাকলে হারাতে বসে আদর্শিক এ সংগঠনটির ভাবমুর্তি। এমনিই জাঁতাকলের স্বীকার হয়েছেন চাঁদনী। তার সর্বোচ্চটুকু দিয়েও কমিটিতে জায়গা করে নিতে পারেননি বলে চাঁদনীর দাবি। আর তার এমন অভিযোগে সহমত জ্ঞাপন করেছেন অন্য আরো দুই নারী কর্মী।

একই এলাকার পূর্ব পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক হয় সিজার ও চাঁদনীর। সেই সুবাদে ছাত্রলীগে যোগদান তারপর সকল কর্মকান্ডেই তার সহযোগি হিসেবে কার্য সম্পাদন। সম্পর্ক আর দলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নানা আবদারও পূরণ করেন চাঁদনী। কিন্তু সিজার সভাপতি হওয়ার পর তাদের সম্পর্কে টানাপোড়ন শুরু হয়। সর্বশেষ অনুমোদিত পূর্নাঙ্গ কমিটির তালিকা থেকেই বাদ দেয়া হয় চাঁদনীকে।

 

এ প্রসঙ্গে সাইদুজ্জামান সিজার বলেন, পূর্নাঙ্গ কমিটির তালিকায় তার নাম মহানগরে পাঠানো হয়। কিন্তু কারমাইকেলের মহিলা তিন হোস্টেল ছাত্রলীগ কমিটির একটিতে তাকে সভাপতি করার প্রস্তাব রেখে মহানগর ছাত্রলীগ এ কমিটি থেকে তার নামটি কেটে দেয়।

 

এ প্রসঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেন বলেন, আমরা মহানগর কমিটি কোন নাম কেটে দেইনি। পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য আমাদের যে তালিকা দেয়া হয়েছে, তা সাংগঠনিক নিয়মনীতি অনুসরণ করেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কারো ব্যক্তিগত সমস্যা যদি সংগঠনের নীতি আদর্শের বহির্ভুত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। কর্মী-নেতা যেই হোক, কারো ব্যক্তিগত দায়ভার কিংবা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নারী কেলেঙ্কারি কোনভাবে বরদাস্ত করা হবে না।

এ প্রসঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি শফিউর রহমান স্বাধীন বলেন, ছাত্রলীগের ক্রাইটরিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কলেজের নিয়মিত ও অবিবাহিত ছাত্র হতে হবে এবং বয়সসীমা সর্বোচ্চ ২৯ বছর হতে হবে। যা অনুসরণ করেই

আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছি। আমরা মনে করি, অনুমোদিত কমিটিতে এমন কেউ নেই যে সে বিবাহিত বা তার ছাত্রত্ব শেষ কিংবা তার বয়সসীমা ২৯ পার হয়েছে। আমাদের কাছে এ সংক্রান্ত সকলের বৈধতার এভিডেন্স রয়েছে। কেউকে পদে রাখা না রাখা আমাদের দলীয় ব্যাপার। সিজারের বিষয়টি তার ব্যক্তিগত। এব্যাপারে দলীয়ভাবে আমাদের করার কিছু নেই।

জানা যায়, গত ১লা জুন কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির তালিকায় এমন ১৮ জন পদে রয়েছেন যাদের অনেকে বিবাহিত, অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে অনেক আগেই। আবার অনেকে কারমাইকেল কলেজেরই ছাত্র নন। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ পদে কি করে রয়েছেন? আর এমন কাকতালীয় কমিটি মহানগর ছাত্রলীগ কর্তৃক অনুমোদিত হলো কিভাবে? তা নিয়ে নানা উদ্বেগ আর সংশয় দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*