Thursday , October 18 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রংপুরে কাউন্সিলর প্রার্থী রাজিয়া ভোটে জিততে স্বামী সন্তানকে অস্বীকার

রংপুরে কাউন্সিলর প্রার্থী রাজিয়া ভোটে জিততে স্বামী সন্তানকে অস্বীকার

শাহরিয়ার মিম(রংপুর):
স্বামীকে তালাকপ্রাপ্ত দেখিয়ে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেমনোনয়ন পত্র দাখিল করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে কাউন্সিলর প্রার্থী রাজিয়া সুলতানার মনোনয়নপত্র বাতিল ও তার শাস্তি দাবি করেছে স্বামী এবং দুই সন্তান। মনোনয়ন পত্র বাতিল ও শাস্তি প্রদান করা না হলে আমরণ অনশনসহ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিচারের দাবি জানাবেন স্বামী শেখ রেজা আহমেদ।

আজ রবিবার বিকেলে নগরীর একটি হোটেল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা। এ ঘটনায় রংপুর মহানগরীতে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টিসহ ওই প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভোটাররা ওই প্রার্থীকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাকে ভোট না দেওয়ার জন্য প্রচারণা শুরু করেছে।

এদিকে মহিলা ভোটার লিলি বেগম, রুজি বেগম, ময়না বেগম, সম্পা আক্তারসহ অনেকেই বলেন, স্বামীকে অস্বীকার করা এই নারী দজ্জাল প্রকৃতির অথবা কারো সাথে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কোন স্ত্রী স্বামী থাকা অবস্থায় তার স্বামীকে অস্বীকারের ঘটনায় বাংলাদেশে এই প্রথম।

ওই প্রার্থীকে নারী জাতির কলঙ্ক আখ্যা দিয়ে ভোটাররা বলেন, এ রকম একজন বিতর্কিত মহিলাকে আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাই না। তাকে ভোট দেওয়া তো দূরের কথা আমরা তাকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে নারীবাদী একটি সংগঠন ও শিশুদের অধিকার রক্ষাকারী একটি সংগঠনের ওই এলাকার নেতৃবৃন্দদের পক্ষ থেকে তাকে ভোট না দেওয়ার জন্য প্রচারণা শুরু করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বামী শেখ রেজা আহমেদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা তথ্য গোপন করে আমি স্বামী থাকাবস্থায় আমাকে তালাকপ্রাপ্ত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনে ভুয়া তথ্য দিয়ে ৪, ৫ ও ৬নং ওয়াডের্র সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তিনি বলেন, আমাদের ১২ বছরের সংসার জীবনে ২টি জমজ সন্তান রয়েছে। আমাদের সন্তান রুবাইয়া ইসলাম রিনি ও জান্নাতুল ফেরদৌস জিম ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, আমার স্ত্রী নির্বাচন কমিশনের তথ্য ফরম ও হলফনামায় স্বামীর নামের স্থলে তালাকপ্রাপ্ত দেখিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে তিনি তার স্ত্রীর প্রার্থীটা বাতিল ও শাস্তি দাবি করেন।

তিনি বলেন, তার দাবি মেনে নেয়া না হলে সন্তানদের নিয়ে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনসহ আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। রংপুরের নির্বাচন কমিশন যদি কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিচার চাবো। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বামী স্বামী শেখ রেজা আহমেদ বলেন, আমি তাকে খুব ভালোবাসি। আমাদের সংসার জীবনে কোন কলহ-বিবাদ ছিল না।

এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে শিশু সন্তান রুবাইয়া ইসলাম রিনি ও জান্নাতুল ফেরদৌস জিম। তারা বলেন, মা নির্বাচন করতে গিয়ে বাবাকে কেন অস্বীকার করছে এবং আমাদের কেন খোঁজ-খবর নিচ্ছে না কেন বলে আরও ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকে। এ সময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

অভিযুক্ত ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রাজিয়া সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন প্রকার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*