Monday , June 18 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রংপুরে গঙ্গাচড়ায় তিস্তায় ভয়াবহ বন্যা,৬৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

রংপুরে গঙ্গাচড়ায় তিস্তায় ভয়াবহ বন্যা,৬৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: অবিরাম বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ৩০টিরও বেশী গ্রামে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। খাদ্য ও পানির অভাবে বন্যার্তদের চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তিস্তা ডানতীর উপ-বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার ভেঙ্গে গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে ডালিয়া পয়েন্টে ১৩ আগষ্ট সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫৩ দশমিক ০৫ মিটার। যা বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটারের ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বন্যায় তিস্তা তীরবর্তী গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, গঙ্গাচড়া, লহ্মিটারী, গজঘন্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের ৩০টিরও বেশী গ্রাম সম্পূর্ণরূপে প্লাবিত হয়েছে। ফলে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদের অনেকে পাশ্ববর্তী বাঁধ কিংবা উচুঁ রাস্তার ধারে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ পলিথিনের তাবুতে গৃহপালিত পশু-পাখিসহ গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। এদের হাতে নেই খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি।
প্রবল বন্যায় গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক জামতলা মসজিদের পাশে তিস্তা ডানতীর উপ-বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে ভাটির মর্নেয়া ইউনিয়নের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার্তদের মাঝে সরকারীভাবে জরুরী ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাদ্যের প্যাকেট বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতি পরিবারের জন্য প্যাকেটে রয়েছে ১ কেজি চিড়া, আধ কেজি মুড়ি ও আধ কেজি গুড় বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান প্রায় দেড় হাজার প্যাকেট তৈরী রয়েছে। কিন্তু আজ সবগুলো বিতরণ সম্ভব হবে না।
বন্যার্তরা জানান, প্রায় ২০ হাজারের অধিক পরিবার প্লাবিত হলেও জনবলের অভাবে শুকনো খাবার বিতরণ চলছে অতি ধীর গতিতে। ফলে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যাভাব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*