Wednesday , September 26 2018
Home / বাংলাদেশ / বরিশাল বিভাগ / রংপুরে ঝন্টুর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল,তার ইচ্ছা অনুযায়ী মা-বাবার কবরের পাশে দাফন

রংপুরে ঝন্টুর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল,তার ইচ্ছা অনুযায়ী মা-বাবার কবরের পাশে দাফন

রংপুর প্রতিনিধি:
শোকার্ত লাখো জনতার অংশগ্রহণে মধ্যদিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র, সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবীদের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে।
সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে ঝন্টুর নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আসরের নামাজের পর থেকে রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে মানুষের ঢল নামে। নানা শ্রেণি পেশা ও বয়সের মানুষ রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে কফিনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। জানাজা শুরুর আগে জনসমুদ্র হয়ে যায় পুলিশ লাইন মাঠ। পরে চিড়িয়াখানা মোড়, হনুমানতলা, রংপুর সরকারি কলেজ এলাকা, পুলিশ কমিউনিটি সেন্টার ,টেকনিক্যাল কলেজ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন গুপ্তপাড়া বাইতুল শাহজাদা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদ উল্ল্যাহ।
জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর একমাত্র পুত্র রিয়াজ আহমেদ হিমন। তিনি আগত জনতার প্রতি তার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, রংপুরের গণমানুষের নেতা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে রংপুরবাসীসহ সারাদেশের মানুষ তার প্রতি যে অকৃত্রিম ভালবাসা দেখিয়েছে তাতে আমাদের পরিবার এদেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। জানাজায় লাখো মানুষের ভিড় প্রমান করে তিনি রংপুরবাসীর কত আপন ছিলেন।
তিনি সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু একাধারে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান, এমপি ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাতায় রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। তার জীবদ্দশায় যদি কোনও ভুল করে থাকেন অথবা কারো মনে যদি কোন কষ্ট দিয়ে থাকেন তার জন্য পিতার পক্ষ থেকে ক্ষমা চান। তিনি সবাইকে তার পিতাকে ক্ষমা করে দেয়ার আহ্বান জানান। শোকাহত ঝন্টু পুত্র হিমনের এ বক্তব্য জুড়ে কান্নার রোল উঠে।
নামাজে জানাজায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহেদুজ্জমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সেক্রেটারি অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, মহানগর সভাপতি সফিয়ার রহমান সফি, মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন, জাতীয় পার্টির মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলর আবুল কাশেম, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রামানিক, রংপুর জেলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল আবছার দুলাল, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন, রংপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, বাংলার চোখের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী, চন্দনপাট ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান, সদ্যপুষ্কুরণী ইউনিনের চেয়ারম্যান সোহেল রানা, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রংপুরের সভাপতি জাহিদ হোসেন লুসিড, সেক্রেটারি মমিনুর ইসলাম রিপন সহ রংপুরের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, ওলামাদল, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাশনাল পিপলর্স পার্টি- এনপিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ শরিক হন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর কফিনে জাতীয় পতাকা আচ্ছাদিত করা হয়। রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঝন্টুর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বেলা ১টায় মরদেহ রংপুর নগরীর সেনানিবাস মাঠে নামানো হয়। সেখান থেকে মরদেহ গুপ্তপাড়ার বাসায় নেয়া হয়। তার পর বাদ আসর রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে আরেক দফা জানাজা শেষে নূরপুর কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয় সাবেক মেয়র ও এমপিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*