Saturday , June 23 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রংপুরে দুর্গাপুজা উপলক্ষে পুলিশ সুপারের আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

রংপুরে দুর্গাপুজা উপলক্ষে পুলিশ সুপারের আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

মো:ইসতিয়াক ফারদিন সজীব:
সোমবার পুলিশ কমিনিউটি হল রংপুরে শারদীয় দুর্গা পূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মো: মিজানুর রহমান পিপিএম, পুলিশ সুপার রংপুর।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা শুরু হবে। প্রতিমা বিসর্জন হবে ৩০ সেপ্টেম্বর।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘(প্রতিমা) বিসর্জনের শোভাযাত্রায় আমরা নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। সেখানে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে সময়টা মেইন করার জন্য। সব মন্দিরে বিকেল ৩টার মধ্যে সবাই এসে যাবেন। যাতে রাত ৮টার মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে পারি। এজন্য আমরা বিশেষ অনুরোধ করেছি। পূজা উদযাপন কমিটিও আমাদের সেই ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন। তারা সময়টা মেইন টেইন করবেন বলে জানিয়েছেন।’ রংপুরে মোট ৮৭৫ টি পূজা মণ্ডপ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘রংপুরের অবস্থা অনেক সুন্দর, অনেক ভাল ও অনেক নিরাপদ। পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি আমাদের জানিয়েছেন, এবার ৮৭৫টি পূজা মণ্ডপ হবে। রংপুরে উৎসবমুখর পরিস্থিতিতে পূজা অনুষ্ঠিত হবে, যেটা প্রতিবার হয়ে থাকে। পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘শারদীয় দুর্গা পূজায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ও দুষ্কৃতিকারীদের অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে যাব। যেখানে আমাদের যা প্রয়োজন হবে, দরকার হলে আমরা মোবাইল কোর্ট পর্যন্ত স্থাপন করব। যাতে করে কেউ এই ধরনের বাধা দিতে আসে বা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে চায়; যাতে আমরা তাদের কিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি। ইভটিজিং প্রতিরোধ ও মহিলাদের পূজা মণ্ডপে আগমনের স্বার্থে ভলান্টিয়ারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পোশাক ও আর্মব্যান্ড পরা মহিলা ভলান্টিয়ার রাখার জন্য আমরা পূজা উদযাপন কমিটিকে অনুরোধ করেছি। তারা একমত হয়েছেন।’
পূজায় আতশবাজি, মাদকদ্রব্য নিষেধ, ‘পূজা চলাকালীন আমরা রাস্তায় মেলা বসাতে মানা করেছি। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, এতে রাস্তাঘাটে যানজট হয়, ছিনতাই ও নানান ধরনের বাধার সম্মুখীন হই। আমাদের একটা প্র্যাকটিস হয়ে গেছে, যারা পূজা করেন তারা আজানের সময় তা বন্ধ রাখেন। এবারও আমরা অনুরোধ করেছি, আজানের সময় যাতে পূজা মণ্ডপ থেকে কোনো ধরনের বাদ্য বা উচ্চস্বরে কিছু করা না হয়।’

‘প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা সবাই এই উৎসবে যোগ দেব।’-বলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বাবু সোনা। ‘পূজা মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় সহযোগিতা করবে। ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া পূজার সময় রাস্তার বাতি সচল, অচল রাস্তাঘাট তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত ও পূজা মণ্ডপের কাছের ডাস্টবিনগুলো পরিষ্কার রাখতে সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
সভায় জেলা প্রশাসনের সকল পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং হিন্দু সম্প্রদায় ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা ছাড়াও সকল প্রেস ও মিডিয়া উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*