Monday , June 18 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুরে ফুচকা বিক্রেতা শিশু মাইদুলের ইচ্ছে: “মোক বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া নাগবে”

রংপুরে ফুচকা বিক্রেতা শিশু মাইদুলের ইচ্ছে: “মোক বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া নাগবে”

রংপুর অফিস:
রংপুরের মাইদুল ইসলাম (১০)। ইঞ্জিনিয়ার শব্দের সঙ্গে ছোট থেকেই পরিচিত সে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার কি সেটার সঠিক উত্তর না দিতে পারলেও সে এতটুকু বলতে পারে যে , ইঞ্জিনিয়ার হলে ঘুচবে তার কষ্ট। হয়তো মিলবে ভালো কাপড়-চোপড়।
আর তাই এই ছোট বয়সে ফুসকার দোকানে কাজের পাশাপাশি হাল ধরেছে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার।
তার বয়সী অন্যসব শিশুদের মতো মাইদুল আবদার করতে পারে না বাবা-মার কাছে। সে জানায়, তার মা-বাবা থেকেও অনেকটা না থাকার মতো। তাই খালুর ফুচকার দোকানে মিলেছে আশ্রয়। এখানে সে ফুচকা বিক্রির পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছে তার লেখাপড়া।
রংপুর উত্তর মুলাটোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র মাইদুল। লেখাপড়ায় মনযোগের কারণে স্কুলে ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। আর স্কুলের বন্ধুদের কাছে সে পরিচিত ফুসকা মাইদুল নামে। তবে এতে ক্ষোভ নেই তার।
‘আমি কখনো ভালো কাপড় পড়তে পারি না। অন্য সবার মতো খাবারও খেতে পারি না। তবে এতকিছুর পরও লেখাপড়া ছাড়বো না। বন্ধুদের নতুন কাপড় দেখে আমার কিনতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কে দিবে আমাকে।’, আঞ্চলিক ভাষায় অভিমানে প্রশ্ন রাখে মাইদুল।
আবার সে বলতে শুরু করে, গালমন্দ শুনে কষ্ট করে লেখাপড়া করছি। সেই সঙ্গে বিকাল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত করি ফুসকা বিক্রি।
‘মোর (আমার) বাপ থাকিয়্যাও (থেকেও) নাই। তারা জামালপুরে থাকেন। মোক (আমাকে) বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া নাগবে (লাগবে) । চাকরি করে মা-বাবাকে নিয়্যা (নিয়ে) আসিম (আসবো) । শুনেছি ইঞ্জিনিয়ার হতে অনেক টাকা নাগবে (লাগবে) ।’, যোগ করে মাইদুল।
মাইদুলের খালু আবদুল হামিদ জানান, মাইদুলের বাবা আলাল উদ্দিন ও মা জামালপুরে থাকেন।
তিনি বলেন, আমি মাইদুলকে তার বাবার কাছে যেতে বলি। কিন্তু লেখাপড়ার ক্ষতি হবে ভেবে সে বাবা-মার কাছে
যায় না। এছাড়া তার পরিবারের অবস্থাও ভালো না।
মাইদুলের স্কুলের প্রধান শিক্ষক হুসনে আরা সেবা বলেন, মাইদুল ছাত্র হিসেবে খুব ভালো। ফুসকার দোকানে চাকরি করে লেখাপড়া করে। তার পরেও তার ইচ্ছা সে ইঞ্জিনিয়ার হবে। মাইদুলের জন্য আমরা দোয়া করি। সৃষ্টিকর্তা তার ইচ্ছা পূরণ করুক।PicsArt_09-02-09.54.29

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*