Sunday , August 19 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুরে বিল রিডাররা অফিসে বসেই মিটার দেখেন,প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহক

রংপুরে বিল রিডাররা অফিসে বসেই মিটার দেখেন,প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহক

stkerরংপুর অফিস:
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) রংপুর অফিসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।
বিল রিডাররা অফিসে বসেই মিটার দেখেন। সেই সঙ্গে মনগড়া প্রস্তুত করে গ্রাহকদের তা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। সচেতন দু’একজন গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল সংশোধন করলেও অধিকাংশ গ্রাহকই প্রতারিত হচ্ছেন।
ফলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভোগান্তি কমছে না গ্রাহকদের। অনেকের অভিযোগ, বিল রিডারদের স্বেচ্ছাচারিতায় বিশেষ করে বাড়ির মালিকদের নানা রকম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
নগরীর মুলাটোল, শালবন, মুন্সিপাড়া, নিউসেন পাড়া, কটকি পাড়া, গোমস্তা পাড়া, পাক পাড়া, ধাপ এবং কেরানিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিল রিডাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার না দেখে অফিসে বসেই ইচ্ছে মতো বিদুত্যের ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে মনগড়া বিল তৈরি করে তা পরিশোধের জন্য গ্রাকদের দেন। এতে করে কোন মাসে বিদ্যুৎ বিল খুবই কম আসছে আবার কোন মাসে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে। তবে গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যখন মিটারের প্রদর্শনকৃত ব্যবহৃত ইউনিটের চেয়ে বিদ্যুৎ বিলে কয়েকগুণ বেশি উল্লেখ করা হচ্ছে।
মনগড়া বিল নিয়ে ভোগান্তির শিকার নগরীর মুলাটোলের কবীর আহমেদ বলেন, ভাড়া বাসায় থাকি। প্রতিমাসেই মিটারে ব্যবহৃত ইউনিটের তুলনায় অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল দেয়া হয়। কয়েক বার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত ইউনিট কমানোর অনুরোধ জানালেও তারা কথা শোনেননি। তিনি বলেন, নিরুপায় হয়ে বিল দিয়ে যাচ্ছি। এ অবস্থায় বাসা বদল করে অন্যত্র চলে গেলে অতিরিক্ত ইউনিটের বিল বাবদ যে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা গচ্ছা যাবে। বর্তমানে মিটারে উল্লেখিত ইউনিটের তুলনায় অতিরিক্ত সাড়ে তিনশ ইউনিটের বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। মূলত বিল রিডারদের খামখেয়ালীপনার জন্য গ্রাহকরা এরকম নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ধরনের ভোগান্তির শিকার বাড়ির মালিক মাহফুজার আক্তার। তার মিটার নং ৩৪৮৫৯৮। আগস্ট মাসে তিনি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন ৪৭৭ টাকা। আবার সেপ্টেম্বর মাসে ৪ হাজার ৫৫২ টাকা পরিশোধ করার জন্য তাকে বিল দেয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগস্টে বাড়িতে যা যা ব্যবহার করেছেন সেপ্টেম্বরেও এর বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেননি। অথচ বিল দেয়া হয়েছে গত মাসের চেয়ে ৯ গুণ বেশি।
একই সমস্যায় পড়ছেন আব্দুল খালেক নামে এক গ্রাহক। তার মিটার নং বি- ৪৪২৯৯৮। আগস্টে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন ৪৪৭ টাকা। সেপ্টেম্বরে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৩ হাজার ৬৭ টাকা। অথচ এখন রাতে অপেক্ষাকৃত বেশি ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় ফ্যানও বন্ধ করে রাখেন। তারপরও গত মাসের চেয়ে ৭গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল দেয়ায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
শহরের মুন্সিপাড়ায় খোরশেদ জাহানের বাড়িতে ভাড়া থাকেন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু। তিনি আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ বিল (মিটার নং-ডি ৪৪৪৪৬৬৫) পরিশোধ করেছেন ১ হাজার ৬২২ টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে তাকে ২ হাজার ৫৫৬ টাকা পরিশোধের জন্য বিল দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু আগস্ট নয়, এর আগের মাসগুলোতে বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে ছিলো। বর্তমানে শীত অনুভূত হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যাবহার শুধু তার নয় বিশেষ কারণ না থাকলে কারও বেশি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাই বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে গ্রাহক হয়রা26037নি বন্ধের দাবি জানান তিনি।
নগরীর মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা জাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিলের টাকা পরিশোধে
র শেষ তারিখ যেদিন ঠিক তার আগের দিন বিকেলে বিলের কাগজ তার বাড়িতে দেয়া হয়েছে। তিনি নিয়মিত ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু জরুরি কাজে রংপুরের বাইরে থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী এস এস তৌহিদুল করিম বলেন, বর্তমানে স্যানাপ শর্টের জন্য এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে মিটারে থাকা বিদ্যুতের ইউনিটের ছবি তুলে বিল করায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে।
তিনি বলেন, যেসব জায়গায় বিল রিডাররা ব্যবহৃত প্রকৃত ইউনিট ধরে বিল করেননি। সেসব জায়গায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*