Monday , July 23 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রংপুরে ভোটের আলোচনায় ঝন্টু মোস্তফা, বাবলা

রংপুরে ভোটের আলোচনায় ঝন্টু মোস্তফা, বাবলা

বিশেষ প্রতিনিধি :
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছেন তিন মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও কাওসার জামান বাবলা। এ তিনজনের মধ্য থেকেই একজন মেয়র নির্বাচিত হবেন। মূলত এই তিন প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের প্রচারের মাঠে দেখা গেলেও অন্য চার প্রার্থীকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের বেশ ক’টি এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সাতজন। তাদের মধ্যে ভোটারদের আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও বিএনপির কাওসার জামান বাবলা। সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে এ তিন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক এবং নিজ নিজ দলের নেতাদের প্রচার চালাতে দেখা গেছে।

৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বকসি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমানের সমর্থকরা প্রচার চালাচ্ছেন। তারা ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, জাতীয় পার্টির নয় বছরের শাসনামলে দেশের মানুষ কত শান্তিতে ছিল। চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য অনেক কম ছিল। রংপুরের রাস্তাঘাট, ড্রেন, কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এরশাদের আমলে। রাস্তার বাতি এরশাদের আমলেই লাগানো হয়েছে। সেই জাতীয় পার্টি ও এরশাদের প্রার্থী হচ্ছেন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে সিটি এলাকায় একটিও কাঁচা রাস্তা থাকবে না। মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি পাশে থাকবেন। তাই সবাইকে লাঙ্গল মার্কায় মোস্তফাকে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তারা।
ওই এলাকার জাপা কর্মী হাদিউজ্জামান ও সেলিম মিয়া জানান, তারা মোস্তফার পক্ষে কাজ করছেন এক মাস ধরে। এখানে লাঙ্গলের অবস্থান অনেক ভালো।

ভোটার আবুল কালাম ও সাইফুল ইসলাম জানান, মোস্তফার অবস্থান ভালো হলেও অন্য দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের ঝন্টু ও বিএনপির বাবলার অবস্থানও খারাপ নয়। ভোটারদের আলোচনায় এ তিন প্রার্থীই শীর্ষে রয়েছেন। ওই ভোটাররা জানান, তারা যখন ডাকেন তখনই মোস্তফাকে কাছে পান। তাই তাকেই এবার ভোট দেবেন।
বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা গতকাল শুক্রবার টার্মিনাল এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন। বিএনপি কর্মী রাসেল মিয়া জানান, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। তিনি জানান, তারা পাঁচজনের একটি টিম ১৫ দিন ধরে এ এলাকায় কাজ করছেন। জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ধানের শীষে ভোট দিলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। বাবলা নির্বাচিত হলে সব সময় তাকে কাছে পাওয়া যাবে। বাবলা শিল্পপতি।

তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে বেকার সমস্যার সমাধান করবেন। ওই এলাকার ভোটার শামীম মিয়া ও নজরুল ইসলাম জানান, জাপা, বিএনপি আর আওয়ামী লীগ এ তিন প্রার্থীর নামই আলোচিত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠে। তারা এখন ভাবছেন, এ তিন প্রার্থীর মধ্যে কাকে নির্বাচিত করলে সিটিবাসীর উন্নয়ন হবে। সুখে-দুঃখে কাছে পাওয়া যাবে।

কলাবাড়ী এলাকার ভোটার তালেব মিয়া ও আফজাল হোসেন জানান, সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর অবস্থান খুব ভালো এখানে। কারণ তিনি সৎ লোক।

তারা তাকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন। তারা আরও জানান, ঘুম থেকে ওঠার পর কোনো না কোনো প্রার্থীর কর্মীদের দেখতে পাচ্ছেন তারা। আওয়ামী লীগকর্মী লাভলু মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা কলাবাড়ীর প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিলে সিটি উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। রংপুরের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি রয়েছে।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, নির্বাচনে সাত মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, বিএনপির কাওসার জামান বাবলা, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, বাসদের আবদুল কুদ্দুস, এনপিপির সেলিম আক্তার ও জাপার বিদ্রোহী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*