Monday , July 23 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রংপুরে সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম : আদালতে মামলা

রংপুরে সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম : আদালতে মামলা

রংপুর মহানগরীর অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিনের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ অবৈধ উল্লেখ করে তা বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করেছেন স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক শিক্ষকসহ ৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক। আদালত শুনানী শেষে আগামী ৮ ফেরুয়ারী পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেছে। তবে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বাদীদের আইনজীবী আব্দুস সোবহান জানান, সমাজকল্যাণ বিদ্যা বিথি স্কুল অ্যান্ড কলেজের আশপাশের অধিবাসি বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুল আউয়াল, সাবেক শিক্ষক জিয়াউল হক সেবু, সাবেক কাউন্সিলরসহ ৬ জন ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া নাহিদ ইয়াসমিনের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা এবং অপসারণ করার জন্য রংপুরের যুগ্ম জেলা জেলা আদালত ১ এ মামলাটি (নং ২/১৭) করেছেন।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ১৯৬২ সালে রংপুর নগরীর সেনপাড়ায় নারী শিক্ষার বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য মেয়েদের জন্য এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাদী আব্দুল আউয়ালের পিতাসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নাহিদ ইয়াসমিন তার মামা তৎকালীন শিক্ষা সচিব শহিদুল আলমের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ৭ জনকে অবৈধভাবে ডিঙ্গিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদটি দখল করে নেন। পরে তার মামা শিক্ষা সচিবের প্রভাব খাটিয়ে সকল নিয়মনীতি, আইন-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই গোপনে রংপুর থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সাজানো নিয়োগ কার্যক্রম দেখিয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান।

মামলায় বলা হয়, নাহিদ ইয়াসমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা কিংবা সিনিয়রিটি কোনো কিছু না থাকলেও শুধু সাবেক শিক্ষা সচিব মামা হওয়ার কারণে অধ্যক্ষ পদটিতে অবৈধভাবে নিয়োগ পান। নিয়োগ বিধি অনুযায়ী আইন দুটি সনদে তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত কেউ অধ্যক্ষ পদে কোনো অবস্থাতেই আবেদন করতে পারবে না। কিন্তু নাহিদা ইয়াসমিনের এসএসসি ও এইচএসসিতে তৃতীয় শ্রেণী পাওয়া সত্ত্বেও তাকে তার মামা সাবেক শিক্ষা সচিব শহিদুলের ইসলামের প্রভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়। বিধি অনুযায়ী তিনি কোনোভাবেই ওই পদে আবেদন করতে পারেন না। ওই পদে তার এমপিও পুরোটাই অবৈধ। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি কলেজটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন।

মামলায় তার নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে অপসারণ করার আবেদন জানানো হয়েছে।

আদালতের সেরেস্তাদার আব্দুল আজিজ স্বাক্ষরিত কোর্ট নোটিশে বলা হয়েছে, দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ১ আদেশের ৮ রুল মোতাবেক সমাজ কল্যাণ বিদ্যাবিথি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিন এর অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ বেআইনী, অবৈধ ও যোগসাজসি ঘোষণার জন্য ও তৎসহ তার দ্বারা সংঘটিত অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখ করে মামলার প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী শুনানীর পরবর্তি দিন ধার্য করেছে। এই মামলায় কেউ বাদি ও বিবাদি হতে চাইলেও এই সময়ের মধ্যে আদালতে লিখিতভাবে জানানোর জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে।

তবে এ ব্যপারে কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিন জানান, একজন শিক্ষককে ছুটি মঞ্জুর না করায় কমিটির সিদ্ধান্তে তাকে পরবর্তীতে সাময়িক বরখাস্ত করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অন্যদেরকে দিয়ে এই মামলা দায়ের করেছে। আমার নিয়োগ সম্পূর্ণ বৈধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*