Friday , August 17 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুরে ১৬ জঙ্গির খোঁজে পুলিশ

রংপুরে ১৬ জঙ্গির খোঁজে পুলিশ

received_302601876750890

নজরুল মৃধা: রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা এবং বাহাই নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার অভিযেগে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) ২৮ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে চলছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। সীমান্তে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

চাঞ্চল্যকর এই তিন মামলায় চার্জশিটভুক্ত জেএমবির অধিকাংশ সদস্যের বাড়িই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায়। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থান চষে বেড়াচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ছাড়াও দুর্গম চরাঞ্চলেও চলছে অভিযান।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, পলাতক জেএমবি সদস্যদের গ্রেপ্তারে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধীরা ভারতে যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা এবং বাহাই নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ২৮ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। বাকি ১৬ জন পলাতক রয়েছে। জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৮ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১০ জুলাই রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আমলি আদালতে কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী এটি দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্তরা হচ্ছে- গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির সামরিক শাখার নেতা মাসুদ রানা, এহসাক, লিখন ও আবু সাইদ এবং পলাতক সাদ্দাম হোসেন, আহসান উল্লাহ, নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ও সাখাওয়াত হোসেন।

মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ৩ জুলাই ১৪ জেএমবি সদস্যকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে ও ৭ জন পলাতক রয়েছে। চার্জশিটভুক্তরা হলেন- মাসুদ রানা, ইসহাক, লিটন মিয়া, আবু সায়্যিদ, সাদ্দাম হাসেন, নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান, সাখাওয়াত হোসেন, সারওয়ার হোসেন, সাদাত হোসেন, তৌফিকুল ইসলাম, চান্দু মিয়া, রজিবুল ইসলাম, বাবুল মাস্টার ও জাহাঙ্গীর হোসেন। তাদের মধ্যে প্রথম সাতজন কুনিও হোশি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। আসামিদের মধ্যে জেলহাজতে রয়েছে মাসুদ রানা, ইহসাক, লিটন মিয়া, সারওয়ার হোসেন, সাদাত হোসেন, তৌফিকুল ইসলাম ও আবু সাইদ। বাকিরা পলাতক রয়েছে।

এ ছাড়া শহরের বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় জেএমবির ছয় সদস্যকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনই কুনিও হোশি হত্যা মামলার আসামি। এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- মাসুদ রানা, ইহসাক, সাদ্দাম ওরফে রাহুল, আহসান উল্লাহ আনসারি ওরফে বিপ্লব, মোসাব্বেরুল আলম খন্দকার ওরফে প্রিন্স ও নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান। চাজশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে।

অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার টাঙ্গাইলপাড়ায়। ইসাহাক আলী বাড়ি একই এলাকায়। সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল ও আহসানউল্লাহ আনসারি ওরফে বিপ্লবের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান এবং লালমনিরহাটের বানভাসা এলাকায় মোসাব্বেরুল আলম খন্দকার ওরফে রিপন ওরফে প্রিন্সের বাড়ি। প্রতিটি কিলিং মিশনেই মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান।

পুলিশের সূত্র জানায়, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেলচালক বাইক হাসানসহ এসব মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামির অধিকাংশের বাড়ি রংপুরসহ উত্তারাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়।

উল্লেখ্য, গত বছর ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারিতে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে ও একই বছরের ১০ নভেম্বর খাদেম রহমত আলীকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ওই বছরের ৮ নভেম্বর বাহাই নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*