Monday , June 18 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর জিলা স্কুলের ১৮৪ বছর পূর্তি অনুষ্ঠিত

রংপুর জিলা স্কুলের ১৮৪ বছর পূর্তি অনুষ্ঠিত

রংপুর অফিস:

১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন (এসএসসি) পাস করেন মোকাররম হোসেন। মাঝে পেরিয়ে গেছে ৭১ বছর। তাতে কী! ৮৮ বছর বয়সেও তাঁর কাছে স্কুলজীবনের স্মৃতি আজও অমলিন। সেই স্মৃতির টানে আবার ফিরে এলেন প্রিয় প্রাঙ্গণে।
রংপুর জিলা স্কুলের ১৮৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসব ছিল বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার। উৎসবের স্লোগান ছিল ‘যেথায় থাকি যে যেখানে, বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে’। নানা বয়সী মানুষের উচ্ছলতা, শুভেচ্ছা বিনিময়, স্মৃতি রোমন্থন থেকে বোঝাই যায়, বাঁধন আলগা হয়নি মোটেও, আছে একেবারে প্রাণে প্রাণে।
মোকাররম হোসেনের মতো বর্ষীয়ান আরও অনেকেই এসেছিলেন উৎসবে। স্কুলের প্রধান ফটকে পুলিশি নিরাপত্তার কারণে ভেতরে কোনো গাড়ি ঢুকতে পারেনি। সবাইকে হেঁটে স্কুলের ভেতরে যেতে হয়। মোকাররম হোসেনও প্রধান ফটক থেকে অনেক দূরের পথ হেঁটে স্কুল প্রাঙ্গণে এলেন। এর পরও তাঁর ক্লান্তি নেই। যদিও তাঁর সতীর্থ কাউকেই এই পুনর্মিলনী উৎসবে পাননি। অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি, আমার ছেলে, নাতিসহ এবার এই পুনর্মিলনী উৎসবে সাতজন নিবন্ধন করেছি।’
সম্মিলিত পুনর্মিলনী উদ্যাপন পর্ষদ এই পুনর্মিলনীর আয়োজন করে। বুধবার দুপুরে প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বেলুন উড়িয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন। এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় ও উৎসব পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়।
আলোচনা পর্বে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ আয়োজন ঘিরে যে প্রাণের স্পন্দন তৈরি হয়েছে, সেটি যেন আমাকেও স্পর্শ করেছে। এই স্কুলে পড়ালেখা করতে না পারলেও বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠে স্কুলজীবনে হকি খেলেছি। তখন আমি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। রাজশাহীকে ২-০ গোলে হারিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘রংপুর আমার বাড়ি না হলেও পাশের জেলা নীলফামারীতে আমার বেড়ে ওঠা। ’৬২-৬৪ সাল পর্যন্ত এইচএসসি পড়েছি রংপুরের কারমাইকেল কলেজে। এ কারণে রংপুরের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত পুনর্মিলনী উদ্যাপন পর্ষদের আহ্বায়ক চিকিৎসক জাবেদ আখতার। স্বাগত বক্তব্য দেন পর্ষদের সদস্যসচিব এ কে এম তহমিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু, রাশেদ মাহবুব ও স্বাত্বিক শাহ আল মারুফ।
আলোচনা পর্বের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী লেখক ও প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক।
আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এই স্কুলে লেখাপড়া করা প্রবীণ রাজনীতিক, রংপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও ভাষাসৈনিক মোহাম্মদ আফজালকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থী চারজন ভাষাসৈনিক ও ২০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা পাওয়া চার ভাষাসৈনিক হলেন মোহাম্মদ আফজাল, সুফী মোতাহার হোসেন, মীর আনিসুল হক পেয়ারা ও আবদুল গণি সরকার।
সম্মাননা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফুল হক।
প্রথম দিন দুপুরে অনুষ্ঠান উদ্বোধন হলেও সকাল ১০টা থেকেই প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রিয় বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হতে থাকেন। পুরোনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন সবাই। ফিরে যান পুরোনো দিনে। সম্মাননা প্রদান শেষে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা।
শোভাযাত্রা শেষে স্কুল নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আশিষ ভট্টাচার্যের নির্মিত ও পরিচালনায় ‘আমার স্কুল-দ্বিতীয় পর্ব’ নামের একটি ডকুমেন্টারি ছবি প্রদর্শিত হয়। এরপর শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় সংগীত পরিবেশন করেন।
দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে ব্যাচভিত্তিক পরিচিতি ও স্মৃতিচারণা। দুপুরের পর কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।এতে অর্থহীন ও লালন ব্যান্ডের শিল্পী রা গান পরিবেশন করেন।picsart_09-16-01-57-38

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*