Thursday , September 20 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রংপুর তারাগঞ্জে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই চলছে পশু জবাই

রংপুর তারাগঞ্জে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই চলছে পশু জবাই

সুমন আহমেদ,তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাটবাজার গুলোতে পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।গরু জবাই প্রতি ১০০ করে টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ।

তারাগঞ্জ বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘পশু হাসাপাতালের চিকিৎসক প্রতিদিন এখানে আসে না। জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও তা ঘুষ নিয়ে করে না। হামরায় সুস্থ দেখি গরু কিনি জবাই করি মাংস বেঁচাই। ওমরা অফিসোত বসি থাকি খালি গরু প্রতি ২০টাকা করি চান্দা নেয়। ঘনিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরু প্রতি টাকা তুলে পশু হাসপাতাল আর স্বাস্থ্য বিভাগের লোকোক ভাগ করি দেয়।’

তারাগঞ্জ বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আফান বলেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নামে জবাইকৃত গরু প্রতি ১০০ টাকা করে তোলার কথা মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুনেছি। কিন্তু কে কত টাকা ভাগ পায় তা আমি জানি না।

জবাইয়ের আগে গরু প্রতি ১০০ টাকা করে চাদা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঘনিরামপুর গ্রামের মোক্তারুল ইসলাম বলেন, আমি দায়িত্বে আছি উত্তোলন টাকা ভাগ করে দেই ‘ওই টাকা তো আমি খাই না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়নে ছোট বড় মিলে ১৮টি হাট বাজার আছে। এসব হাটবাজারে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক গরু-ছাগল জবাই করা হয়। অভিযোগ উঠেছে জবাইকৃত অধিকাংশ পশুই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে এসব রোগাক্রান্ত গরু-ছাগল কিনে জবাই করে বেশি দামে মাংস বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা অধিক লাভবান হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসকদের পশু জবাইয়ের পূর্বে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা থাকলেও এ ব্যাপারে তাঁরা উদাসীন।

উপজেলার সবচেয়ে বড় হাটবাজার তারাগঞ্জ। শুক্র ও সোমবার হাট বসে। প্রতিদিন বসে বাজার। বাজার ছাড়াও প্রতিহাটে প্রায় ৪০-৫০টি গরু, ছাগল জবাই করা হয়। জবাইয়ের আগে পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও এ হাটের ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। গত সোমবার হাটের মাংস বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কাদা পানি আর রক্তে একাকার। পশুর রক্ত বর্জ্র র্দুগন্ধে নাক মুখ চেপে ধরে ক্রেতারা মাংস কিনছেন।

মাংস হাটির উত্তর দিকে দাঁড়িয়ে আছেন কুর্শা গ্রামের ব্যবসায়ি মনিরুজ্জামান মনির । তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় এক বছর থেকে সপ্তাহে দুই দিন ঘুম থেকে উঠেই তারাগঞ্জ বাজারে মাংস কিনতে আসি। নিজ চোখে গরু জবাই করা দেখি। তারপর সেই মাংস কিনি। কিন্তু কোনো দিনও প্রাণি সম্পদ বিভাগের ডাক্তারকে পশু জবাইয়ের আগে এখানকার পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেখিনি। প্রায় দিনেই জবাইকৃত গরু, ছাগলের অধিকাংশই অসুস্থ্য থাকে। ’ ডাঙা পাড়া গ্রামের রাসেল বলেন, শরিয়াহ্ বিরোধী পশু জবাই নিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্ঠি হয়েছে।

ওই বাজারে মাংস ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বাবু বলেন, ‘আগোত পশু অফিসের ডাক্তার স্যারেরা আসছিল। হামরা গরু-ছাগল পরীক্ষা করছেনো। কিন্তুক ছয়-সাত মাস থাকি আইসে না। গরু, ছাগল পরীক্ষাও করে না। গরু প্রতি ১০০ টাকা করি চান্দা দিয়া হামরা নিজেই সুস্থ্য গরু, ছাগল জবো করি মাংস বেঁচাই।’

তারাগঞ্জ বাজারের পর সবচেয়ে বড় হাট ইকরচালী। রোব, মঙ্গল ও বৃহস্পতি হাট বসে। প্রতি হাটে ১০-১২টি গরু, ছাগল জবাই করা হয়। বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ইকরচালী উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে মাংস শেড। এ হাটে পশু জবাইয়ের কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। যেখানে সেখানে জবাই করা হচ্ছে গরু, ছাগল। রক্ত, বর্জ্র কাদা পানিতে মিশে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র র্দুগন্ধের।

বাজার করতে আসা মেনানগর গ্রামের লাজু মিয়া বলেন, ‘রক্ত বর্জ্রের র্দুগন্ধে মাংস হাটি যাওয়া যায় না। নাক-মুখ ঢাকি যাবার নাগে।’

মাংস শেডের পাশের মুদি দোকানী জহির উদ্দিন বলেন, প্রায় দিন ভোরে পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই মাংস বিক্রেতারা ইকরচালী উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে অসুস্থ্য গরু-ছাগল জবাই করেন। তাদের নিষেধ করলেও শোনে না।’ উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ চিকিৎসক আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের এসব দেখার দায়িত্ব থাকলেও তারা খোজ রাখেন না।

ওই বাজারের মাংস ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হামরা তো রোগাক্রান্ত গরু, ছাগল জবো করি না। ভালো গরু, ছাগল জবো করি। ডাক্তোরোক ফির পরীক্ষা কইরার নাগবে ক্যানে? দিনাও ডাক্তোর পামো কোনটে?’

ডাংগীরহাট বাজারেও পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। যেখানে সেখানে পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। ২০ বছর আগে উপজেলা পরিষদ থেকে একটি মাংস শেড নির্মাণ করা হলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বর্ষার সময় সেখানে পানি চুয়ে পড়ে, রক্ত নোংরা পানি আর মাটির র্দুগন্ধে আশেপাশে থাকা যায় না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*