Sunday , July 22 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও

রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও

শাহরিয়ার মিম: তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরনের দাবিতে গতকাল ৭ এপ্রিল বাসদ (মার্কসবাদী) রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করে। এর পূর্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ঘেরাও কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলা আহবায়ক কমরেড আহসানুল হাবীব সাঈদ। বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্র্তী, জয়পুরহাট জেলা সমন্বয়ক ওবায়দুল্লাহ মুসা, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড মঞ্জুর আলম, জেলা শাখার সমন্বয়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলু, রংপুর জেলা কমিটির সদস্য পলাশ কান্তি নাগ। বক্তারা বলেন, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পরেই তিস্তা বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত চতুর্থ বৃহত্তম আর্ন্তজাতিক নদী। এই তিস্তা নদীর সাথে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, নৌ চলাচল ও পরিবেশ ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। এক কথায় তিস্তা এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণ। কিন্তু সেই তিস্তা আজ মরণদশা। ভারতের জলপাইগুড়িতে তিস্তা নদীর উপর গজলডোবা ব্যারেজের সকল গেইট বন্ধ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় উত্তরাঞ্চলের কৃষিখাতে চরম দুর্যোগ নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব মতে ১৯৯৩ সালে তিস্তা সেচ প্রকল্প ৭,৫০,০০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চালু হয়েছিল। আর সেই তিস্তা সেচ প্রকল্প এবার ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিলেও বাস্তবে কৃষকেরা সেচ সুবিধা পাচ্ছে না বললেই চলে। এই প্রকল্পের আওতায় যেখানে বিঘা প্রতি সেচ দিতে ১৫০-২০০ টাকা লাগতো, সেখানে তিস্তান পানির না পেয়ে কৃষককে ফসল রক্ষার তাগিদে স্যালো মেশিনের সাহায্যে সেচ দিতে গিয়ে প্রায় ২৫০০-২৭০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। কর্মহীন হয়ে পড়ছে শত শত মৎস্যজীবী ও মাঝিরা। অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*