Monday , July 23 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রংপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে এরশাদ পরিবারে চলছে গৃহদ্বন্দ্ব

রংপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে এরশাদ পরিবারে চলছে গৃহদ্বন্দ্ব

শাহরিয়ার মিম,রংপুর: আসন্ন রংপুর সিটি কপোরেশন নির্বাচনে
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে চ্যালেঞ্জ করে তার মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আগামী রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (রসিক) মেয়র পদে গণসংযোগ শুরু করেছেন ছোট ভাইয়ের ছেলে হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। তার এই প্রচারণার মধ্য দিয়ে ফের নতুন করে গৃহদ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে এরশাদের জাতীয় পার্টি। এতে দিন দিন বড় আব্বা এরশাদের সঙ্গে পারিবারিক দূরত্ব বাড়ছে ভাতিজা আসিফের।
এরই জের ধরে চলতি মাসে ৫ জুলাই বুধবার বেলা ১১টায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর কেরামতিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে হযরত মাওলানা কেরামত আলীর (রহঃ) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন আসিফ।

এসময় আসিফ শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে মনোনয়ন দেয়া হলে সেটা হবে এরশাদের ভুল সিদ্ধান্ত। মোস্তফা মনোনয়ন পেলে গতবারের মতো এবারও মেয়র পদ হারাবে জাতীয় পার্টি। তাই দলের স্বার্থে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি।’
এদিকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর জাপার সভাপতি সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার নাম ঘোষণা করেন দলীয় প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
এরশাদের মনোনীত প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তাকে মনোনয়ন দেবার দাবি জানিয়ে গত ১৪ জুন সেনপাড়াস্থ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন আসিফ শাহরিয়ার। সেখান থেকে আগামী রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এরশাদ মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে নিজের প্রার্থীতার ঘোষণাও দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দলীয় ষড়যন্ত্রকারী দাবি করে তার বিরুদ্ধে বিষোদাগার করেন। অভিযোগ করেন, রাঙ্গার কারণেই এরশাদের পারিবারিক ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনের ছয় দিন পর পাল্টে যায় রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির চিত্র। ভাতিজা আসিফের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় জেলা কমিটির সদস্য সচিবের পদ-পদবি। পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে জেলা জাপার সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক করেন এরশাদ। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেলা জাতীয় পার্টি থেকে বাদ পড়েন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসিফ।
আর এই অভিমানেই ভাতিজা আসিফ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা পোস্টার থেকে বড় আব্বা এরশাদের ছবি ও দলীয় সকল পদ-পদবি বাদ দিয়ে শুধু সাবেক এমপির পদবি ব্যবহার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফের বিষোদাগারে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন প্রেসিডিয়াম সদস্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। আসিফকে অর্বাচীন বালক দাবি করে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য এরশাদের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া রংপুরে আসিফকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার হুঁশিয়ারিও দেন রাঙ্গা।
অন্যদিকে আসিফের এ ধরনের সাংবাদিক সম্মেলনকে অপ্রত্যাশিত বলেছিলেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
এরশাদের পারিবারিক সূত্র জানায়, জেলা কমিটি বিলুপ্ত করার পর বড় আব্বা এরশাদের ওপর ভীষণ অভিমান করেন ভাতিজা আসিফ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রমজানের শুরুতে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ব্যানারে আসিফ এরশাদের ছবি এবং পদ-পদবি হিসেবে যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টারে তিনি এরশাদের ছবি ও জাতীয় পার্টির সকল পদ-পদবি বাদ দেন। বর্তমানে নগরীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে আসিফের হাজার হাজার পোস্টার। এতে পদবি লেখা হয়েছে সাবেক এমপি। পোস্টারটি থেকে এরশাদ ও জাতীয় পার্টির পদ-পদবি বাদ যাওয়ায় নগরবাসীদেরও নজর কেড়েছেন তিনি। স্থানীয়রা মনে করছেন, এরশাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবার সহজে মিটবে না।
এ প্রসঙ্গে সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ বলেন, ‘আসলে অভিমান তারই সঙ্গে করা যায়, যিনি অভিমান বোঝেন। আমি যখন মেয়র প্রার্থী ঘোষণা দেই সেদিনই বুঝেছি যে আমাকে জাতীয় পার্টি থেকে মাইনাস করা হবে। সেজন্য আমি বড় আব্বা ও জাতীয় পার্টির কোনো পদ-পদবি ঈদের পোস্টারে ব্যবহার করিনি।’
তিনি বলেন, ‘আমি যে ঠিক, আমার বক্তব্য যে ঠিক, তা বড় আব্বা এমন সময় বুঝবেন যখন তার কিছুই করার থাকবে না। যখন তিনি মেয়র পদটি হারাবেন, তখন আফসোস করেও কোনো কাজে লাগবে না।’
এদিকে রাঙ্গাকে জেলা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে ভাতিজা আসিফ কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। এখন আর তার পাশে নেই এক সময়ের রাঙ্গা বিরোধীরা। আসন্ন রসিক নির্বাচনকে ঘিরে এখন জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সব নেতারাই ভিড় জমাচ্ছেন রাঙ্গার পাশেই। এতে করে ভাতিজা আসিফের আউট আর ভাগ্নে রাঙ্গার ইন করার বিষয়টা বেশ উপভোগ করছেন নগরবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*