Wednesday , September 26 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / রসিক নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর, প্রচরণার শুরুতেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জড়িয়ে পড়ছেন মেয়র প্রার্থীরা

রসিক নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর, প্রচরণার শুরুতেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জড়িয়ে পড়ছেন মেয়র প্রার্থীরা

মো: ইসতিয়াক ফারদিন সজীব,রংপুর:
রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (রসিক) প্রতীক পাওয়ার পরপরই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা। ফলে নগরীর চারিদিকে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দিনভর মাইকিং আর অমুক ভাই-ভালো লোক জয়ের মালা তারই হোক, এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে নগরবাসীর মাঝে।

সোমবার বিকেলে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলেও গতকাল মঙ্গলবার সকালেই সিটি কর্পোরেশন এলাকা ভরে যায় প্রার্থীদের পোষ্টার দিয়ে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীরা সভা-সমাবেশের পাশাপাশি সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে দেখা করে ভোট চাচ্ছেন এবং সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। তবে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টুর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও দলের চেয়ারম্যান এরশাদকে কটাক্ষ করার অভিযোগ এনেছেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

অন্যদিকে, সেনা মোতায়েন ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা। তার দাবি যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তবে তিনি বিজয় লাভ করবেন।
আর আওয়ামীলীগ প্রার্থী সরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনও অপরাধ করেননি, যে কারণে জনগণ তাকে ভোট দেবেন না। পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত তিনি উন্নয়ন পৌচ্ছে দিয়েছেন তাই জয়ের ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদী। বর্তমানে তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী উত্তাপ।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল এলাকা থেকে জনসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি প্রেসক্লাব চত্বর, সেন্ট্রাল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুপাশের দোকানদার, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি প্রত্যেকের হাতে লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে লাঙ্ড়ল মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় জাতীয় পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আহাম্মেদসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। জন সংযোগকালে মোস্তফা সাংবাদিকদের নাম প্রকাশ না করে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী’ আমার দলের চেয়ারম্যান এরশাদ ও আমাকে নিয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলছেন।

এর মাধ্যমে তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। কারণ, কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এছাড়া, তিনি একটি লিফলেট ছাপিয়েছেন, যার মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, তিনি ব্যবস্থা নেবেন।’ নির্বাচনে তিনি ভোটারদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাচ্ছেন দাবি করে বলেন, ‘যেহেতু রংপুর এরশাদের দুর্গ সে কারণে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।’ এদিকে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু নগরীর কুকরুল এলাকায় জনসংযোগ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার সেখানে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখার কথা। একই দিন মেডিকেল মোড়েও পথসভা করেন তিনি। তবে দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘পাঁচ বছর মেয়র পদে থাকাকালীন এমন কোনও অন্যায় করিনি, যার কারণে জনগণ আমাকে ভোট দেবে না। আমি সিটি কর্পোরেশনে অনেক উন্নয়ন করেছি। সেই উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাখতে এবারও জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী।’ অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা নগরীর মাহিগঞ্জ, সাতমাথাসহ আশপাশের এলাকায় জনসংযোগ করেছেন। তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন এবং দোয়া চেয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

কাওছার জামান এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ায় বিষয়ে এখনও আমার মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ৫ জানুয়ারি বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসার পর কোনও নির্বাচনই অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি। এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেনি নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে শোডাউন করছেন, একারণে বিএনপিকে কোনও সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’ সব দলকে সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দিকে, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, ‘কোনও দলের পক্ষ থেকে লিখিত কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। আর সভা-সমাবেশ করার বিধান তো নির্বাচনী আইনে নেই। প্রার্থীরা শুধু পথসভা করতে পারবেন। তাও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়।’

রসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ছাড়াও বাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এলডিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহারিয়ারসহ মোট সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*