Thursday , October 18 2018
Home / জাতীয় / রাস্তা পরিষ্কারের পর এবার নিজের ঘর পরিষ্কারের পালা

রাস্তা পরিষ্কারের পর এবার নিজের ঘর পরিষ্কারের পালা

দেশ জুড়ে চলছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ৭-১২ হাজার মানুষ নিহত হয়। এই সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সারা জীবন একটি পরিবারকে কষ্টের গ্লানি বয়ে যেতে হয়। যদি সে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি হন তাহলে এর মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এছাড়াও অনেকে সারা জীবনের জন্য বরণ করে নিচ্ছে পঙ্গুত্ব।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর ৯০ ভাগই ঘটেছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও গতির কারণে। তাদের ভিতর এক গাড়ির সাথে অন্য গাড়ির প্রতিযোগিতা চলতে থাকে সব সময়। এজন্য গতির মাত্রা বেশি থাকে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতি। আর বেপরোয়া চালকের কারণে ঘটে ৩৭ শতাংশ দুর্ঘটনা। 

বাংলাদেশ ঘনবসতি পূর্ণ একটি দেশ। ঘনবসতিপূর্ণ এই নগরীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নিরাপদ সড়ক রয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ। কিন্তু থাকা উচিত ২৫ শতাংশ। এই কম সড়কে চলে আবার অধিক গতির যানবাহন। এজন্য সোচ্চার হয়েছে ছাত্রসমাজ। দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত ও অসঙ্গতির জন্য দেশের সড়ক পথে রয়েছে নানা রকম সমস্যা। এই সমস্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। গত কয়েক দিনের আন্দোলনে সেসব সমস্যা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের ছাত্র সমাজ। তারা যানজট পরিহার করার জন্য রিকশার  পৃথক একটি লেনের ব্যবস্থা  করেন। শুধু তাই নয় জরুরি যানবাহন যেমন অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের জন্য তারা তৈরী করেছেন একটি ইমার্জেন্সি লেন। কোনো অ্যাম্বুলেন্স আসলে তারা সেই ইমার্জেন্সি লেন দিয়ে দ্রুত যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। তারা শুধু রাজপথে আন্দোলন করেই ক্ষান্ত নন। রাজপথ পরিষ্কারের জন্যও রয়েছে তাদের সজাগ দৃষ্টি। তারা নিজ হাতেই পরিষ্কার করছেন রাজপথ।

রাজপথ পরিষ্কারের পর এবার উচিত তাদের ঘরের দিকে নজর দেয়া। কারণ এই শিক্ষার্থীদের অনেকের অভিভাবক কর্মরত রয়েছে দেশের অনেক উচ্চপদস্থ পদে, রয়েছেন বিভিন্ন সচিবালয়, মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কর্মরত। তাদের উচিত অভিভাবকের আয়ের উৎসের প্রতি নজর দেয়া। তাদের অভিভাবকের আয়ের উৎস কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত কিনা সেদিকে নজর দেয়ার সময় এখন চলে এসেছে। কারণ দুর্নীতির জন্য দেশে নিয়ম-কানুন স্থায়ী হয় না। এজন্য ছাত্র সমাজেরই উচিত দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।

এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার। আমাদের ছাত্র সমাজ এখন লড়ছেন দেশের সড়ক পথের অসঙ্গতির জন্য। তারাই দেশের আগামী দিনের কাণ্ডারি। পুরো জাতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তাবে এক সময়। সেই স্বর্ণালী যুগের অপেক্ষায় রইলাম আমরা দেশবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*