Sunday , August 19 2018
Home / বাংলাদেশ / রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটায় ভর্তি ছিনতাই করলো বাংলা বিভাগ

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটায় ভর্তি ছিনতাই করলো বাংলা বিভাগ

brur

মাজাহারুল মান্নান: রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের কোটায় ভর্তি ছিনতাই করে নিয়েছে বাংলা বিভাগ। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে ইতিহাস ও কলা বিভাগ। নজীর বিহীন এই অনিয়ম এখন ক্যাম্পাসে টক অব দ্যা টাউন। রোববার এই কোটায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটি অনুষদের আওতাধীন প্রত্যেকটি বিভাগ সমান হারে কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এই নিয়মকে টপকিয়ে এবারের ভর্তি পরীক্ষার কলা অনুষদের ডীন ও সমন্বয়কারী এবং বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সাইদুল ইসলাম নিজের বিভাগের নামেই ২১ টি কোটা আসনের মধ্যে ১৫ টিই নিজের বিভাগে নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করেছেন। ঘোষণা অনুযায়ী রোববার শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, কলা অনুষদের বাংলা, ইংরেজি ও ইতিহাস বিভাগে ৬০ টি করে মোট ১৮০ টি আসন আছে। এরমধ্যে এবার ২১ জন শিক্ষার্থী কোটায় ভর্তি হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আসন অনুপাতে কোটার ভাগ হয়। সে হিসেবে এই অনুষদের আওতাধীন বাংলা , ইংরেজি ও ইতিহাস বিভাগে ৭ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি মানা হয় নি অনুষদটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া ফলাফল অনুযায়ী দেখা গেছে, এই বিভাগে বরাদ্দ পাওয়া ১০ টি মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৯ টিই দেয়া হয়েছে বাংলা বিভাগে। আর ১ টি দেয়া হয়েছে ইংরেজিতে। অন্যদিকে প্রতিবন্ধিদের ৭ টি কোটার মধ্যে ৫ টি বাগিয়ে নিয়েছে বাংলা, ২ টি দেয়া হয়েছে ইংরেজিকে। আর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি কোঠার ৩ টির মধ্যে ইতিহাসকে দেয়ার হয়েছে ২ টি। আর বাংলা নিয়েছে ১ টি। অন্যদিকে পোষ্য কোঠার ১ টিকে দেয়া হয়েছে ইংলিশকে। আজ রোববার এসব শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার কথা। নজীর বিহীন এই অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইতিহাস বিভাগ। তারা ইতোমধ্যেই বিষয়টিতে আপত্বি জানিয়ে ভিসিকে লিখিত আবেদন দিয়েছে। এ ব্যপারে ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান গোলাম রব্বানী জানান, এবার কোটায় যে ফলাফল টাঙ্গানো হয়েয়ছে তাতে নজীরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে। কারণ রেসিও অনুযায়ী আমার বিভাগে ৭ জন হওয়ার কথা। কিন্তু আমাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ২ জন। এটি আপত্বিকর। বিষয়টি জানিয়ে আমি ভিসিকে এই ভর্তি বন্ধ করার জন্য আবেদন জানিয়েছি। তিনি বলেন, এই অনিয়ম বাস্তবায়ন হলে বাংলায় ৭৫, ইংরেজিতে ৬৪ এবং আমার বিভাগ ইতিহাসে মাত্র ৬২ জন শিক্ষার্থী হবে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরিপন্থি। এ ব্যপারে কলা অনুষদের ভর্তি কমিটির সমন্বয়কারী ও বাংলা বিভাগের প্রধান ড. সাইদুল হক জানান, কোটায় সমবন্টনের কোন নিয়ম নেই। কোটার শিক্ষার্থীদের চয়েজ অনুযায়ী ফলাফল দেয়া হয়েছে। এতে কোন অনিয়ম করা হয় নি। বিষয়টি নিয়ে ভিসি স্যারও আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তাকেও বিষয়টি ক্লিয়ার করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*