Sunday , August 19 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১০

লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১০

লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে লালমনিরহাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের স্থগিত ঘোষিত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইসলাম রাব্বিসহ কমপক্ষে ১০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সদর থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রবিবার (২১ মে) দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগ ও লালমনিরহাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রানুকে বহিষ্কার এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই কলেজ কমিটি স্থগিত করা হয়।

সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম জেলা ছাত্রলীগ পরিচালনা করবে মর্মে নোটিশও জারি করা হয়। দীর্ঘদিন কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড না থাকায় নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করার জন্য রবিবার (২১ মে) জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ হোসেন বক্করের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা সরকারি কলেজে যায়। একই দাবিতে মতবিনিময় সভার কথা বলে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহ উদ্দিন সুমন ও বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রানুর নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগকর্মী সরকারি কলেজে যায়।
এরই মধ্যে দুই গ্রুপের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সরকারি কলেজ মাঠ চত্বর ও শেখ রাসেল শিশুপার্ক এলাকায় দুই দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাব্বি ও সদস্য লাইকুজ্জামানকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সরকারি কলেজ মাঠে সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করা হয়। সভা শেষে শহরে ফেরার পথে কলেজ ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহ উদ্দিন সুমন, ইয়াবা মামলার আসামি ও কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রানুর নেতৃত্বে একদল ক্যাডার আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমি নিজে ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হই। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় পৃথক পৃথক ৩টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

এদিকে নিজেদেরকে বৈধ দাবি করে লালমনিরহাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহ উদ্দিন সুমন বলেন, ‘যদি কলেজ শাখা কমিটি স্থগিত করা হয়ে থাকে তাহলে এতদিনে কাগজপত্র দেওয়া হয়নি কেন? রবিবার আমরা নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা ডাকায় তারাও পাল্টা কর্মসূচি দেয়। এটা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার প্রতিহিংসা।’ এসব বন্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ চান তিনি।’

ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে পুলিশের মামলার আসামি ও সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রানু ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে বলেন, ‘কলেজ শাখা কমিটি স্থগিত কিংবা আমাকে বহিষ্কার করার কোনও কাগজপত্র আগাম পেতাম তাহলে হয়তো নিজে থেকেই আমরা সড়ে যেতাম। কিন্তু এসবই ষড়যন্ত্রের অংশ। কারণ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে আমরা হেরে যাওয়া প্যানেলের পক্ষে থাকায় আজ এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ চাই।’

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*