Thursday , October 18 2018
Home / বাংলাদেশ / শান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলো

শান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলো

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের কারণে শান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশ যখন নির্বাচনমুখী, ঠিক তখন এ ধরনের ঘটনায় কিছুটা হলেও অস্থিরতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, সরকার বড় ভুল করল। এ ধরনের ‘অবিবেচনাপূর্ণ’ কাজের জন্য সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাধাগ্রস্ত হলো।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। এতে বিভিন্ন জায়গায় বাধা ও পুলিশি হামলার অভিযোগ উঠেছে। সামনে রমজান এবং নির্বাচনের ঠিক বছরখানেক আগে বিএনপি এখনই বড় ধরনের কর্মসূচির দিকে যেতে চায় না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে আইনি পদক্ষেপে যাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়া সপ্তাহ দেড়েক আগে ক্ষমতায় গেলে কী করবেন, তা জানাতে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেন, যার ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনের ইশতেহার তৈরি করবে দলটি। এর মাধ্যমে মূলত বিএনপি নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করল এমনটিই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঠিক এ সময়ে এ ধরনের অভিযান বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে জে (অব) মাহবুবুর রহমান ও গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বালাই নেই সরকারের। এ ধরনের অভিযান ও উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতির দায় সরকার এড়াতে পারবে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

পুলিশ বলছে, শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থানায় করা একটি জিডির সূত্র ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে অভিযান চালানোর জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে তল্লাশি পরোয়ানার আবেদন করা হয়। আদালত ওইদিনই তল্লাশির অনুমতি দেন। এর পর দিন অভিযান চালায় পুলিশ।

জিডির বাদী কে, এ প্রশ্নে গতকাল গুলশান থানার ওসি আবুবকর সিদ্দিক আমাদের সময়কে বলেন, জিডির বাদী কেÑ এ তথ্য বলা যাবে না। এটি গোপনীয় বিষয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, সরকার বড় ভুল করল। এ ধরনের কাজ একেবারেই সমীচীন নয়। একেবারেই অনর্থক, যা বিরোধী দলকে বিব্রত করা ছাড়া কোনো লক্ষ্য ছিল না। এখন দুদলে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে, নির্বাচনী পরিবেশ যাতে তৈরি হয়, দুদলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয় এসব বিষয় সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। এসব কথাবার্তা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন। তখন এ ধরনের পরিবেশ কারা সৃষ্টি করল জানি না। এ ধরনের পদক্ষেপে নিশ্চয়ই ওপরওয়ালার ইঙ্গিত থাকে।

তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা জিডির ভিত্তিতে একটা রাজনৈতিক দল, যে রাজনৈতিক দলের প্রধান একাধিকবার এ দেশে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, সে দলের কার্যালয়ে তাকে না জানিয়ে এ ধরনের ঘটনা কোনো সভ্যসমাজে ঘটে না।

এমাজউদ্দীন বলেন, সঠিক রাজনীতি করলে এভাবে হয় না। এটি একটি দুষ্টু রাজনীতি। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের কাছে নাশকতামূলক-দেশবিরোধী কিছু তথ্য যদি থাকেই, তা হলে দলের মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি পরিচালনা করতে পারত। যেভাবে করেছে সেটি খুব খারাপ। সেটি পরিবেশকে নষ্ট করার জন্যই করেছে।

বিএনপিকে কী ধরনের বিব্রত করা হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য দলকে ভিশন বক্তব্য থেকে যেভাবেই হোক সরিয়ে রাখা।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এটি কাক্সিক্ষত পদক্ষেপ ছিল না। আমার মনে হয়, তারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমাদের দেশে দ্বন্দ্ব, হানাহানি সৃষ্টি করেই যাচ্ছি। দ্বন্দ্ব নিরসন, শান্তি প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এভাবে চলতে থাকলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, এখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই ব্যবহার করা হয়। আইন ও বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা একটি খারাপ নিদর্শন। একটি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে দেশ একটু হলেও এগোচ্ছিল। সেটি আবার এ ধরনের অবিবেচনাপূর্ণ কাজের জন্য বাধাগ্রস্ত হলো।

তিনি বলেন, যারা করেছে, তাদের লাভ কী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব জায়গাতেই এখন নিয়োগ, পদোন্নতি কিছুই যোগ্যতা-দক্ষতার ভিত্তিতে হয় না। যেসব কাজ অদক্ষ, অযোগ্য লোকেরাই এসব অর্বাচীন কাজ করে থাকে। ভালোমন্দ বিবেচনার ক্ষমতা থাকলে তো এ কাজ করত না।

বিক্ষোভ : গতকাল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। রাজধানীর বাড্ডায় একটি মিছিলে পুলিশের গুলিতে আহত হন মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। রাজধানীর থানাগুলোয় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি।

সকালে গুদারাঘাট এলাকা থেকে মিছিল করে মহানগর উত্তর বিএনপি। মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ও যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করতে গেলে গুলি চালায় পুলিশ। তাতে মাহফুজুর রহমান গুলিবিদ্ধি হন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন কর্মী আহত হন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্যামপুর থানা বিএনপি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আসিফুর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে মিছিল হয়। ঢাকার বাইরে সব জেলায় একই কর্মসূচি পালন করা হয়। কুমিল্লার উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একেএম আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে চান্দিনায় মিছিল হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*