Wednesday , September 26 2018
Home / বাংলাদেশ / শিকলে বাঁধা তারাগঞ্জের রঙিলার জীবন

শিকলে বাঁধা তারাগঞ্জের রঙিলার জীবন

(রংপুর): দিনের বেলায় বাড়ির পাশে কদমগাছের সঙ্গে তাঁর এক পা শিকলে বাঁধা থাকে। রাতে জায়গা হয় বাড়ির বারান্দায়। এক বছর ধরে এভাবেই দিন কাটছে রঙিলা রায়ের (৩৯)। মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও অর্থাভাবে তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে না। তাঁর বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে।

রঙিলার পরিবার ও এলাকার কয়েকজন জানান, তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রঙিলা রায়। বাবা বিপেন চন্দ্র রায় মারা গেছেন। মা চৌথ বালা ছোট ছেলের সঙ্গে উপজেলা সদরে থাকেন। রঙিলা রায়ের সহায়সম্বল বলতে কেবল দেড় শতক জমির ওপর একটি টিনের ঘর। তাঁর দুই মেয়ে। এদের একজনের বিয়ে হয়েছে। তিনি চায়ের দোকানে কাজ করতেন। আড়াই বছর আগে রঙিলা রায়ের চলাফেরা ও আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। স্ত্রী পুষ্প রানী তাঁর চিকিৎসার জন্য কবিরাজের দ্বারস্থ হন। চিকিৎসার নামে কবিরাজ টাকা হাতিয়ে নেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ক্রমেই অবনতি ঘটে রঙিলা রায়ের। একসময় তিনি পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। টাকার অভাবে তাঁর চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তাঁকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির পাশে কদমগাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে রঙিলা রায়কে। তাঁকে দেখতে ছোট-বড় অনেকেই ভিড় করছে। পরিচিতজনদের দেখলেই রঙিলা বলেন, ‘ভাই, মোক একটা বিড়ি দেও? মোর জন্যে বিড়ি আনছিস। টাপাস করি বিড়ি দেও, মুই খাইম।’

তাঁর স্ত্রী পুষ্প রানী বলেন, ‘খাওনে জোটে না, চিকিৎসা কইরবার টাকা পাইম কোনটে। যেকনা টাকা আছলো, ওর চিকিৎসা করতেই শেষ। ছাড়ি দিয়া থুইলে পাড়ার লোকোক, বাড়ির লোকোক মারে, ঘরের জিনিস ভাঙচুর করে। গ্রামের ছোট ছোট ছাওয়ার গলা টিপি ধরে। ওই জন্যে শিকল দিয়া বান্ধি থুয়াচুং।’

মেয়ে কণা রানী (১৬) বলে, প্রতিবেশীদের অনেকেই বাবার উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতাল অথবা ঢাকায় নিতে বলছেন। কিন্তু অর্থাভাবে তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। শিকল দিয়ে কাউকে বেঁধে রাখা অমানবিক। রঙিলা রায়কে হাসপাতালে নিয়ে এলে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’

খবর- দৈনিক প্রথমআলোrongila-ray

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*