Wednesday , September 26 2018
Home / বাংলাদেশ / বরিশাল বিভাগ / শ্যালিকাকে হত্যার পর দুলাভাইয়ের আত্মহত্যা

শ্যালিকাকে হত্যার পর দুলাভাইয়ের আত্মহত্যা

বরিশালে পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্যালিকাকে গলাকেটে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দুলাভাই। তার আগে স্ত্রীকে জবাই করার চেষ্টা করা হলেও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।
বৃহস্পতিবার দিবাগত গভির রাতে নগরীর ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পুরানপাড়া এলাকার খান বাড়ির ভাড়াটিয়া বাড়িতে এই হত্যা এবং আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে শিশু শ্যালিকা ও দুলাভাই’র লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুকন্যা হলেন নাম সাদিয়া আক্তার (৬)। সে পশ্চিম পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং একই এলাকার মৃত সিদ্দিক সিকদারের কন্যা এবং পুরানপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী।
আত্মহত্যাকারী দুলাভাই হলো অটোরিক্সা চালক মো. সজিব। তিনি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ধামুরা এলাকার বাসিন্দা। তার আহত স্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে (২০) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
খান বাড়ির মালিক বরিশাল “ল” কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন খান জানান, গত এক বছর পূর্বে মৃত সিদ্দিক সিকদারের স্ত্রী টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক পারুল বেগমের কাছে ঘর ভাড়া দেন। এখানে তিনি এবং তার শিশু কন্যা সাদিয়া বসবাস করত।
পারুলের অপর মেয়ে সুমাইয়া বেগমের গত দুই বছর পূর্বে উজিরপুরের বাসিন্দা ও অটোচালক সজিব এর সঙ্গে বিয়ে হয়। তবে গত এক বছরে বাড়ি ভাড়া নেয়ার পরে জামাতা সজিব এ পর্যন্ত দু’বার শ্বশুর বাড়িতে এসেছে।
পারুল বেগম এর বরাত দিয়ে বাড়ির মালিক সুজন খান বলেন, শ্বশুর বাড়িতে পারিবারিক কলহের জের ধরে রাগারাগি করে বাবার বাড়িতে চলে আসে সুমাইয়া। গত একদিন পূর্বে তিনি স্ত্রীকে নিতে শ্বশুর বাড়িতে আসে সজিব। কিন্তু স্ত্রী শ্বশুর বাড়িতে যাবে না বলে জানায়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এর এ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাত ২টা থেকে আড়াইটার দিকে সজিব মাছ ধরার কথা বলে স্ত্রী, শ্যালীকাকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার উদ্দেশে ধারালো দা দিয়ে গলায় আঘাত করে। এতে স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে ভেবে শিশু শ্যালীকাকে জবাই করে পুকুরে ফেলে সজিব নিজেও বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে থাকা একটি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সকালে স্থানীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতায় দুটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছি।
আহত অবস্থায় গৃহবধূ সুমাইয়া বেগমকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি সুমাইয়ার মা পারুল বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কাউনিয়া থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এমন হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*