Thursday , October 18 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে উক্ত বিদ্যালয়ে সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে গেলে বেশীর ভাগ এলাকার কতিপয় অভিভাবক জানান, অত্র বিদ্যালয়ের মেরামত, খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য সরকারী ভাবে গৃহিত প্রকল্পের আওতায় দুই দফায় প্রাপ্ত বরাদ্দ এবং শিশুদের উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রাপ্ত অর্থ লুটপাটের হিড়িক পড়েছে । বিদ্যালয়ের ব্যয় সংক্রান্ত ক্যাশ মামো সংযোগেই করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গণের যোগসাজসে প্রধান শিক্ষক গণ বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন পূর্বক নামমাত্র কাজ করে সিংহ ভাগ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জানান ও একাধিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে অভিযোগ হলেও আজ পর্যন্ত কোথায় কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

উপজেলার নবসরকারি বিদ্যালয় গুলোর বেহাল অবস্থা শিক্ষকের চেয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম। এমন কি নেই তেমন কোন শিক্ষা উপকরণ। প্রাপ্ত শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত হাতে গনা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলছে এ কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে একাধিক বিদ্যালয়ের সভাপতি গণ ও সদস্যগণ সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বরাদ্দকৃত সামান্য কিছু টাকার মেরামত কাজ ও রং ক্রয় করা হয়েছে। আগের বরাদ্দের খেলনা সামগ্রী এখনো বসানো আছে কিন্তু ব্যবহার নেই। এ সংক্রান্ত প্রকল্প গুলোর প্রাপ্ত বরাদ্দ গুলোর নাম মাত্র কাজ করে হিসাব বইতে ক্যাশ মামো সংযুক্ত করে সকলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে প্রধান শিক্ষক গণ। ব্যায় শেষে অবশিষ্ট টাকার হিসাব প্রধান শিক্ষকগণ অফিসের দোহাই দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে জানতে গেলে অনেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। আবার যারা হয়েছেন তারা বলে বিদ্যালয়ের প্রাপ্ত বরাদ্দের যাবতীয় হিসাব শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া আছে। যদি অনিয়ম পায় তবে শিক্ষা অফিস হতে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

উপরোক্ত বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারে আবদুল্লাহে শাফির নিকট জানতে অফিসে গেলে না পেয়ে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টায় তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা জুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে এ অবস্থা বিরাজ করায় সচেতন অভিভাবক মহল ও এলাকাবাসীরা প্রাপ্ত বরাদ্দের ব্যয়ের বিষয়টি সঠিক সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*