Thursday , October 18 2018
Home / জাতীয় / সাঁওতাল পল্লীতে আগুনের ঘটনায় ২ পুলিশের নাম-পরিচয় শনাক্ত

সাঁওতাল পল্লীতে আগুনের ঘটনায় ২ পুলিশের নাম-পরিচয় শনাক্ত

গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে আগুনের ঘটনায় দুজন পুলিশকে চিহ্নিত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ও গাইবান্ধা জেলা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ হোসেনকে
চিহ্নিত করে আজ বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৫৮ জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্তে সহযোগিতা না করায়, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো.আশরাফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

আজ (বৃহস্পতিবার) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির করা প্রতিবেদনটিতে বলা আছে, শনাক্ত করা দুজনকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন ওই এলাকায় মোট ৮৫ জন পুলিশ ছিল। তাদের মধ্যে ৫৪ জন জেলা পুলিশ, চার জন সুন্দরগঞ্জের পুলিশ এবং ১৪ জন স্পেশাল ফোর্স পুলিশ। এদের সবাইকে নানা জায়গায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে এবং সেসময় গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি আদালত সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর যে ভিডিও আল-জাজিরা টিভিতে প্রচারিত হয়েছিল, তা ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পুলিশ সদর দফতর কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, সে বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিল করতে পুলিশের আইজি এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত বলেন, পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা থাকতে হবে। কতিপয় পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো পুলিশ প্রশাসন কলঙ্কিত হতে পারে না। সে জন্যই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এরও আগে গত ৩১ জানুয়ারি আদালতে উপস্থাপন করা বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকায় সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং ওই ঘটনার সময় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে পুলিশের দুজন ও গোয়েন্দা পুলিশের একজন সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলা হয়েছে। তবে তাদের শনাক্ত করা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*