Friday , August 17 2018
Home / বাংলাদেশ / রাজশাহী বিভাগ / সিটিতে সমর্থনের বিনিময়ে জামায়াত চায় রাজশাহী-৩: তৃণমূল- জোটের দ্বন্দ্বে কি করবে বিএনপি?

সিটিতে সমর্থনের বিনিময়ে জামায়াত চায় রাজশাহী-৩: তৃণমূল- জোটের দ্বন্দ্বে কি করবে বিএনপি?

রাসিক নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই টানাপোড়েন বাড়ছে বিএনপি এবং জামায়াতের জোটে। জামায়াত বিএনপিকে সিটিতে ছাড় দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ আসন দাবি করেছে। এ নিয়ে এখন দেনদরবার চলছে বলেও নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। জামায়াতকে একঘরে করে জামায়েতের ভোট নিজেদের করে নিতে চায় বিএনপি আবার দলীয় স্বার্থে অনেকটাই অনড় জামায়াত। ছাড় দেয়ার প্রবণতা না থাকায় জোটের ভিতর উত্তাপ বাড়ছে। আর তাই নির্বাচনের আগে বেসামাল অবস্থায় বিএনপি-জামায়াত জোট।

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে জামায়াতের ১৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থনে বিএনপিকে তাদের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল কিন্তু তারা তা করেনি। এজন্য জামায়াতের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তেই দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সমর্থনে প্রকাশ্যে ভোটের মাঠে নামছেন না। তবে কেউ কেউ ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

গত নির্বাচনের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এক লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৭২৬ ভোট। এই নির্বাচনে জামায়াত কোনো প্রার্থী না দেয়ায় তাদের সব ভোটই বুলবুল পেয়েছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। আর এই ফ্যাক্টরের কারণেই দলীয়ভাবে অনড় জামায়াত। নিজেদের ভোটের দাপটের কারণেই তারা বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। কারণ জামায়াত ছাড়া বিএনপির ভোট বেশ কমে যাবে। বিএনপি আর জামায়াত কেউই এককভাবে নির্বাচনের পর্যায়ে নেই, তাদের প্রয়োজন পারস্পরিক সমঝোতা কিন্তু জোটের দ্বন্দ্ব আর নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কারণে অনেকটাই ধ্বসে পড়ছে বিএনপি জামায়াত জোট। রাসিক নির্বাচনের পর আদৌ তাদের জোট থাকবে কিনা তা নিয়ে আশংকা দেখা দিয়েছে।

বিএনপি অতীতে জামায়াতকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার কোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি, তাই জামায়াতের ক্ষুব্ধ হবার যুক্তিযুক্ত কারণ আছে। এবারও নির্বাচনের আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ধানের শীষের পক্ষে ভোটের মাঠে থাকতে বিএনপিকে শর্ত দিয়েছিল জামায়াত। শুরু থেকেই চুপটি মেরে থাকা স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শেষ পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে তাদের প্রার্থীতা দাবি করেছে বিএনপির কাছে। এ নিয়ে নতুন মেরুকরণ দেখা দিয়েছে বিএনপিতে। ওই আসনে আগে থেকেই ঠিক করে রাখা বিএনপির মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জামায়াতের এ শর্তে চরম নাখোস হয়েছেন। এ নিয়ে বিএনপি শিবিরে নতুন করে দ্বন্দ্বের আভাস পাওয়া গেছে। জোটের পাশাপাশি তাই বিএনপিতে তৃণমূল-কেন্দ্রের দ্বন্দ্বও আলোচনায়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘জামায়াত ভয়ে মাঠে নামছে না। কারণ প্রশাসন থেকে তাদের ব্যাপারে কঠোর মনোভাব দেখানো হচ্ছে’। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, ‘লক্ষ্য ও চেতনায় বিএনপি-জামায়াত এক আছে। শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে। স্থানীয় নেতাদের দাবি, কাউন্সিলর পদে ছাড় পেতে জামায়াত এখনও প্রচারণায় নামছে না। তারা ১৪ টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছে, সেগুলোতে ছাড় দেওয়া হলে জামায়াত বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামবে।’ তবে জোটের ভাগ বাটোয়ারার সমাধান না হলে এসব কথা কেবল রাজনৈতিক বুলি আকারেই থাকবে। কারণ রাজনীতির মাঠে কথার চেয়ে পারস্পারিক স্বার্থ অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*