Thursday , October 18 2018
Home / বাংলাদেশ / সেবা করতে গিয়ে থানায় গেলেন ডেন্টাল ছাত্রী!

সেবা করতে গিয়ে থানায় গেলেন ডেন্টাল ছাত্রী!

ক্যানসারে আক্রান্ত এক শিশুর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। প্রায় দেড় মাস ধরে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা ওই শিশুটির সেবা-শুশ্রূষা করে আসছেন। এদের একজন ডেন্টাল ডিপ্লোমার ছাত্রী জান্নাত আরা নিশি। বিনা খরচে শিশুটির কয়েকটি রোগনির্ণয় পরীক্ষা করার আবেদন নিয়ে রোববার (২৮ মে) নিশি সরাসরি হাসপাতালটির পরিচালকের কাছে যাওয়ার পরে তাঁকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ হেফাজত থেকে মেয়েটিকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান তাঁর অভিভাবকেরা।
ক্যানসারে আক্রান্ত ১৩ বছরের ওই শিশুটির মা আলেয়া বেগম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে তাঁর মেয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। মাস দেড়েক আগে মেয়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই একদল শিক্ষার্থী তাঁর মেয়ের পাশে এসে দাঁড়ান। নানাভাবে তাঁরা সাহায্য করে আসছেন। এঁদের একজন ডেন্টালের ডিপ্লোমার শিক্ষার্থী জান্নাত আরা নিশি। আজ তাঁর মেয়ের এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ কয়েকটি পরীক্ষা দেন চিকিৎসক। এ জন্য সাহায্য করতে তাঁরা নিশিকে ডাকেন। নিশি এসে মেয়েটির বিনা মূল্যে টেস্ট করানোর জন্য আলেয়ার ১৬ বছরের ছেলেসহ মেডিকেলের পরিচালকের কক্ষে গেলে সেখান থেকে তাঁকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

জান্নাত আরা নিশি বলেন, ফেসবুকভিত্তিক একটি গ্রুপ থেকে একত্র হয়ে তাঁরা ১২-১৩ জন ক্যানসার আক্রান্ত শিশুটিকে সাহায্য করছিলেন। আজ শিশুটির ১৬ বছরের ভাই ফোন করে তাঁকে মেয়েটির রোগ নির্ণয় পরীক্ষার রিপোর্টগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করে আনতে অনুরোধ করেন। নিশি তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে বিএসএমএমইউতে যান রিপোর্ট আনার জন্য। রিপোর্ট নিয়ে দুপুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখেন চিকিৎসকেরা আরও তিনটি টেস্ট দিয়েছেন।

 মেয়েটির পরিবার গরিব বলে চিকিৎসকেরাই বিনা মূল্যে ওই পরীক্ষা করানোর সুপারিশ করেন। তবে পরীক্ষাগারে টেস্ট করাতে গেলে সেখান থেকে জানানো হয়, বিনা মূল্যে টেস্ট করাতে হলে প্রশাসনিক ভবন থেকে স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হবে। এরপর প্রশাসনিক ভবন চিনে নিয়ে সেখানে মেয়েটির ছোট ভাইকে নিয়ে যান নিশি। সেখানে একজন কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে দেখেন, সেখানে কেউ নেই। এরপর একজন তাঁদের কথা শুনে পাশের কক্ষটি দেখিয়ে দেন। সেখানে গিয়ে দেখেন দুজ’ন বসে রয়েছেন। নিশির গায়ে তখন সাদা অ্যাপ্রোন পড়া ছিল। তা দেখে একজন বলেন, তিনি যেহেতু মেডিকেলের ছাত্রী তাই তিনি ভেতরে যেতে পারেন। নিশি ভেতরে ঢোকার পর জানতে পারেন, সেটা পরিচালকের কক্ষ। এরপর তাঁকে দালাল আখ্যা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার পরে একপর্যায়ে নিশি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাঁকে আবারও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তাঁর বাবা গিয়ে মুচলেকা দিয়ে শাহবাগ থানা থেকে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

নিশি বলেন, তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেন্টাল ডিপ্লোমা পড়ছেন। তাঁর অন্য সহযোগীদের মধ্যে কেউ শিক্ষার্থী, আবার কেউ ব্যবসায়ী। চাকরিজীবীও রয়েছেন। তাঁরা এখন পর্যন্ত শিশুটিকে রক্ত দেওয়া থেকে শুরু করে টাকা জোগাড় করে দেওয়াসহ অনেক কিছুই করছেন।

জানতে চাইলে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাহেব আলী বলেন, ‘ওদের একটা সংগঠন আছে। ওরা ক্যানসার আক্রান্ত একটি শিশুর চিকিৎসার জন্য সাহায্য করছিল। শিশুটিকে সাহায্যার্থে কোনো একটি কাজে মেয়েটি ভুলে পরিচালক স্যারের রুমে চলে গিয়েছিল। পরে মেয়েটিকে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতালের লোকের কাছে শুনেছি মেয়েটি অ্যাপ্রোন পড়ে স্যারের রুমে গিয়েছিল। পরে জানা যায় সে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রী নয়। অন্য আরেকটা মেডিকেলে পড়ে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*