Wednesday , September 26 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / সৈয়দপুরে ছাত্রীদের ‘গণধোলাই’ দিলেন স্কুল সভাপতি

সৈয়দপুরে ছাত্রীদের ‘গণধোলাই’ দিলেন স্কুল সভাপতি

এম এ মোমেন, নীলফামারী :

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সদ্য জাতীয়করণ হওয়া একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির বিরুদ্ধে দশম শ্রেণীর ছাত্রীদের মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ইমু নামের এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহত ছাত্রীর অভিভাবক শুত্রবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।
সূত্র মতে, সৈয়দপুর শহরের চাঁদনগরস্থ তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য কোচিং ক্লাস শুরু করেন। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক এ কোচিং ক্লাসে সম্প্রতি গণিত বিষয়ে ৩০ নম্বরের মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে ওই শ্রেণীর অধিকাংশ ছাত্রী কম নম্বর পান। ঘটনার দিন বুধবার (৪ অক্টোবর) রাতের কোচিং ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মে. রেজাউল করিম চৌধুরী রেজা আকস্মিক বিদ্যালয়ে আসেন।

এ সময় তিনি প্রথমে কোচিং ক্লাসের গণিত বিষয়ের মডেল টেস্ট পরীক্ষায় ১০ নম্বরের নিচের কম নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্লাষ্টিকের পাইপ দিয়ে বেদম মারপিট করে ক্লাস থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয় সভাপতি তাঁর হাতে থাকা প্লাষ্টিকের পাইপ দিয়ে শ্রেণী কক্ষে অবস্থানরত ১০ নম্বরের বেশি নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরও মারপিট শুরু করেন। এ সময় দশম শ্রেণীর মানবিক বিভাগের মেধাবী ছাত্রী শারমিন ইমুকেও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি মারপিট করা হয়। এতে ওই ছাত্রী ঘাড়ে প্রচন্ড আঘাত পায়। রাতেই বাড়িতে ফিরে ওই ছাত্রী মারপিটের বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানায়। কিন্তু তারা বিষয়টিকে তেমনভাবে গুরুত্ব দেননি। পরদিন সকালে ওই ছাত্রীর ঘাড়ে তীব্র ব্যাথা অনুভব হতে থাকে। সে তাঁর ঘাড় স্বাভাবিকভাবে কোন রকম নড়াচড়াও করতে পারছিল না।

এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সেই সঙ্গে ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত ওই ছাত্রীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে দেখানোর জন্য অভিভাবককে পরামর্শ দেন। বর্তমানে অসুস্থ ছাত্রী ইমু শহরের তাদের নয়াটোলাস্থ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত স্কুল ছাত্রী ইমু সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ওই দিন বিদ্যালয়ের সভাপতি ক্লাসে ঢুকে আজ ‘গণধোলাই ’ হবে বলে আমাদের মারপিট শুরু করেন।

 

আহত ছাত্রীর বাবা মো. শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ওই বিদ্যালয় সভাপতির মুখের ভাষা খুব খারাপ। সামান্য বিষয়ে ছাত্রীদের অকথ্য, অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন বলে আমি জেনেছি। এমন একজন মানুষ বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকেন কিভাবে ? আমার মেয়ের ওপর যেভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমি বিষয়টি সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। তারা কি ব্যবস্থা নেয় দেখি ? আমি প্রয়োজনে আইনী ব্যবস্থা নিব। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুর রহমান জানান, আমি সৈয়দপুরের বাইরে আছি। তবে এ ধরনের ঘটনার কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযুক্ত তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদ বলেন, ঘটনাটি ওই ছাত্রীর অভিভাবক আমাকে জানিয়েছেন। আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি এলেই আমি তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়ি যাব। ঘটনার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*