Thursday , September 20 2018
Home / বাংলাদেশ / রংপুর বিভাগ / ৪৩ বছরের পুরনো বাসও চলছে সড়কেঃ ফিটনেসহীন যানবাহনে পূর্ণ রংপুর

৪৩ বছরের পুরনো বাসও চলছে সড়কেঃ ফিটনেসহীন যানবাহনে পূর্ণ রংপুর

স্টাফ রিপোর্টার

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রংপুর অঞ্চলে বেড়েই চলেছে ফিটনেসহীন যানবাহনের সংখ্যা। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে চলাচলের অনুপযোগি ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন এসব গাড়ি রাস্তায় ছেড়ে দিচ্ছে মালিকপক্ষ। ফিটনেসহীন এসব গাড়ির কারনে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে, প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। সর্বমহল থেকে ফিটনেসহীন এসব গাড়ি চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের দাবি উঠানো হলেও তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুর থেকে বিভিন্ন জেলা ও আন্তঃউপজেলায় চলমান অধিকাংশ বাসের রেজিস্ট্রেশন নেই।

রংপুর বিআরটিএ’র তথ্যমতে, রংপুরে রেজিস্ট্রেশনকৃত বাসের সংখ্যা ১শ’১৮টি। এরমধ্যে ফিটনেস নেই ১৫ টি বাসের। এছাড়া, সরকারী-বেসরকারী প্রায় তিন শতাধিক কার ও মাইক্রোর ফিটনেস নেই। আর জেলা মটর মালিক সমিতি জানায়, রংপুর থেকে আন্তঃজেলা ও আন্তঃউপজেলাগামী বাস রয়েছে চার শতাধিক। যেগুলো মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণাধীন। এছাড়া, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও প্রায় সমান সংখ্যক বাস রংপুর হয়ে যাতায়াত করে। যেগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুর থেকে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাঁকুরগাও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরগামী অধিকাংশ বাসের ফিটনেস নেই। আর, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাসের রোড পারমিট এবং রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদও শেষ হয়েছে। অনেক পুরনো হওয়ায় যাতায়াতের জন্য সামান্য যাত্রী সুবিধাও নেই বাসগুলোতে। অনেক বাসের বডিতে মরীচা ধরেছে। এসব বাসের সিটগুলো বেশ নরবরে হয়ে গেছে। ইঞ্জিনের বিকট শব্দ ও কালোধোয়া আশপাশের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে।

এছাড়া, বাসের ভিতরে দুর্গন্ধ থাকায় অতিকষ্টে চলাচল করে যাত্রী সাধারণ। আর, বাসগুলোতে যে পরিমাণ যাত্রী উঠানো হয় তার চেয়ে অধিক মালামাল বহন করা হয়। এতে, মাঝে মাঝেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে বাসগুলো। নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কুড়িগ্রাম বাস স্ট্যান্ড ও সাতমাথা সুন্দরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড ঘুরে বেশ কিছু ফিটনেসহীন বাস দেখা যায়। এরমধ্যে রংপুর-ব ০১-০০২৯, রংপুর-জ-১১-০০৩১, রংপুর-জ ১১-০০৫৭, রংপুর-জ-১১-০০০৯, রংপুর-জ ১১-০০৩৬, রংপুর-জ ০৫- ০০৫৮, রংপুর-ব ১১-০০২, রংপুর-জ-০৫-০০২৫, রংপুর-জ-০৫-০০৬৫, রংপুর-জ-০৫-০০৭৪ সহ বেশ কিছু বাসের বেহাল দশা হয়েছে। রংপুর বিআরটিএ থেকে জানা যায়, উপরোক্ত নম্বরের বাসগুলোর মধ্যে রংপুর-ব ০১-০০২৯ নম্বর বাসটি ১৯৭৭ সালে তৈরি হয়েছে। ১৯৭৮ সালে রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর থেকে শাহ সুলতান নামের বাসটি চলছে রংপুর-ফুলবাড়ি রোডে। বাসটি দেখতে একদম নরবড়ে হলেও এর রোড পারমিট রয়েছে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। রংপুর-জ-১১-০০৩১ নম্বরের সুরভি পরিবহন নামের বাসটিও চলছে রংপুর-ফুলবাড়ি রোডে। ১৯৯৮ সালে তৈরির পর একই বছর রেজিস্ট্রেশন পেয়ে বর্তমান পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে বাসটি। রংপুর-জ ০৫- ০০৫৮ নম্বরের বাসটি ১৯৮৮ সালে তৈরির পর একই বছর রেজিস্ট্রেশন করে রংপুর-দিনাজপুর রোডে চলমান বাসটি। গতমাসে ফিটনেসহীন এ বাসটির ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল বাসটির রোড পারমিটের মেয়াদ শেষ হলেও তা দাফিয়ে বেড়াচ্ছে। রংপুর-জ ১১-০০৫৭ নম্বরের বাসটি ২০০২ সালে রেজিস্ট্রেশন পায়। গতবছরে বাসটির রোড পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

এরপরও ওই রোডে চলছে বাসটি। রংপুর থেকে বগুড়া গামী রংপুর-ব ১১-০০২ নম্বরের বাসটিরও রোড পারমিট শেষ হয়েছে। এরপরও চলছে হাড্ডিসর বাসটি। রংপুর-জ-০৫-০০২৫ নম্বরের কুড়িগ্রামগামী এ বাসটি তৈরি করা হয়েছে ১৯৭৫ সালে। আগামী মাসে এ বাসটির রোড পারমিট শেষ হবে। বাসটির বডি ও ইঞ্জিনের অবস্থা নাজুক হলেও তা চলছে ওই রোডে। রংপুর থেকে কুড়িগ্রাম গামী রংপুর-জ-০৫-০০৬৫ নম্বরের বাসটিও তৈরি হয়েছে ১৯৭৫ সালে। ৩৩ বছর পরও সমানতালে বাসের ভিতরে যাত্রী ও উপরে মালামাল নিয়ে যাতায়াত করছে বাসটি। বাস স্ট্যান্ডগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আন্তঃজেলায় চলাচলকারী বাসগুলোর তুলনায় রংপুর থেকে আন্তঃউপজেলায় চলাচলরত বাসগুলোর অবস্থা বেশি নাজুক। বিশেষ করে রংপুর থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা, কুড়িগ্রামের উলিপুর, নাগেশ্বরীগামী বাসগুলোর অবস্থা একেবারেই বেগতিক। এসব বাসের ইঞ্জিন ভালো না থাকায় তেমন কন্ট্রোল করতে হিমশিম খায় চালকরা। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এবিষয়ে জানতে চাইলে, রংপুর জেলা মটর মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজু বলেন, একটি বাস অনেক টাকায় কিনতে হয়। তাই সামান্য সমস্যা হলে মালিকরা ওই বাস বন্ধ রাখতে পারে না। বাসের লাইফ টাইমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাসের সুনির্দিষ্ট কোন লাইফ টাইম নেই। ইঞ্জিন বা বডি মেরামত করলে আবার নতুন হয়

। তিনি আরও বলেন, ঢাকায় একটি বাস ২০ বছর চলার অনুমতি পায়। কিন্তু, ঢাকার বাইরে এ সংক্রান্ত কোন নিয়ম বেধে দেয়া হয়নি। রংপুর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ খান মিজানুর ফাহামী বলেন, রেজিস্ট্রেশনহীন বাস আটক করে মামলা দেয়া হচ্ছে। চলতি মাসের আট দিনেই ৪০টি বাসের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। রংপুর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ২০ বছরের পুরনো গাড়ি আন্তঃজেলায় চলাচল করতে পারবেনা। আমরা ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। এছাড়াও মালিক পক্ষকে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*